---Advertisement---

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘প্রতিরোধ না করলে’ দেশ পাকিস্তান থাকত : স্পিকার

By Suman Debnath

July 11, 2026 11:20 PM

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘প্রতিরোধ না করলে’ দেশ পাকিস্তান থাকত : স্পিকার

---Advertisement---


ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘প্রতিরোধ না করলে’ দেশ পাকিস্তান থাকত : স্পিকার

পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করত, তাহলে এই দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত।

 

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

 

হাফিজ উদ্দিন জানান, সেনাবাহিনীতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজে প্রভাষকের চাকরিও পেয়েছিলেন। একই সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

তার বাবা তাকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় থাকার সময় ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ মালিক তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

 

পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলের মাঠে ফুটবল খেলার সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল।

 

তিনি দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন। রেফারি হুইসেল বাজিয়ে তাকে ডাকেন। হাফপ্যান্ট পরা, সাদা শার্ট, চোখে একটা সানগ্লাস। আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে বললেন, ‘আই অ্যাম মেজর জিয়া। তুমি পাস আউট করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যাবে।

 

মাই ব্যাটালিয়ন ইজ নোন অ্যাজ সিনিয়র টাইগারস। সেনাবাহিনীর সবচেয়ে চ্যাম্পিয়ন ফুটবল টিম সিনিয়র টাইগারস’।

 

হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, এ দেশের মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তার কথাতেই আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছি, অন্যদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে স্পিকার বলেন, সেটি হয়েছিল ছয় দফার ভিত্তিতে। তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্পদ ও সুযোগের সমবণ্টন ছিল না। সেই বৈষম্য নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশকে যেভাবে তত্ত্বাবধান করে, যেভাবে সমৃদ্ধ করে, পূর্ব পাকিস্তান ছিল অবহেলিত। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় না। তখনকার আন্দোলনটির নাম ছিল ‘সাম্যের আন্দোলন’। দুটি অঞ্চলের মধ্যে সমতা ছিল না। সম্পদের সমবণ্টন ছিল না। এজন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষুব্ধ ছিল। এটিকে সম্বল করে আওয়ামী লীগ তৎকালীন নির্বাচনটি জিতেছিল।

 

মুক্তিযুদ্ধকে কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। ১৯৭১ যারা দেখে নাই তারা দুর্ভাগা। আমরা ভাগ্যবান, ১৯৭১ সাল দেখতে পেয়েছি। আমাদের তো মাত্র পাঁচটা ব্যাটালিয়ন ছিল। চার হাজার সৈনিক। মুক্তিবাহিনী ছিল প্রায় লাখের মতো। ছাত্র, শিক্ষক, রিকশাচালক, দোকানদার, বাসের চালক, সহকারী, পিয়নসহ সব পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment