কিছু দিন আগে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং (Orangutan)-এর শাবক উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছে ইন্দোনেশিয়া। ওরাংওটাং (Orangutan) ভারতের প্রাণী নয়। ইন্দোনেশইয়া ও মালয়েশিয়াতেই এদের দেখা যায়।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ভোগরাই ব্লকেরর বিচিত্রাপুর জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং (Orangutan) শাবককে উদ্ধার করে ওড়িশার বন দপ্তর। ওরাংওটাং(Orangutan) ভারতের প্রাণী না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হন বনকর্তারা। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, বন্যপ্রামী পাচারকারীদের মাধ্যমে শাবকগুলি(Orangutan) ওড়িশায় এসে থাকতে পারে।
#WATCH | Balasore, Odisha | Five baby orangutans, two females and three males, all under one year old, were found in the Ranakatha Protected Reserve Forest (PRF) near Badapai village, which is not their natural habitat.
According to Balasore DFO Indalkar Pratik Prakash, “While… pic.twitter.com/CcdHwug3FO
— ANI (@ANI) September 9, 2026
এই শাবকগুলি (Orangutan)উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটির উপর নজর রাখছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। প্রাণীগুলির উৎসস্থল নিশ্চিত হতে এবং তাদের ইন্দোনেশিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে তারা।
ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রক জানিয়েছে, বালেশ্বর থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি শিশু ওরাংওটাংয়ের(Orangutan) বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাণীগুলির যথাযথ পরিচর্যা, তাদের উৎস যাচাই এবং প্রয়োজনে ইন্দোনেশিয়ায় ফেরানোর জন্য ভারত ও দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ওড়িশার জঙ্গলে ওরাংওটাং, ভারতে কীভাবে এল, তা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য
ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যাবে উৎস
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পাঁচটি শাকবকে (Orangutan) সুমাত্রার ওরাংওটাং বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্তভাবে তাদের প্রজাতি ও জিনগত উৎস নিশ্চিত করা যায়নি।
ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, ওরাংওটাংয়ের (Orangutan) শারীরিক ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে সুমাত্রার ওরাংওটাং বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অনুমান নিশ্চিত করতে অনুমোদিত বৈজ্ঞানিক সংস্থার মাধ্যমে ডিএন পরীক্ষা করা হবে।
অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের জোরালো ইঙ্গিত
ইন্দোনেশিয়ারর বক্তব্য, ভারতে ওরাংওটাং (Orangutan) পাওয়া যায় না। তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। বিশেষ করে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপ। তাই ভারতের জঙ্গলে একসঙ্গে পাঁচটি শাবক ওরাংওটাংয়ের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত ইন্দোনেশিয়ার। তাদের আশঙ্কা, প্রাণীগুলি আন্তঃদেশীয় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য ও পাচারের শিকার হয়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: বন্যপ্রাণী পাচার রুখতে কড়া DRI, ১০ দিনে ৬টি বড় অভিযান
ভুবনেশ্বরে কোয়ারেন্টাইনে পাঁচ ওরাংওটাং
উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাং শাবককে(Orangutan) ইতিমধ্যেই ভুবনেশ্বরের নন্দনকান জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন।
চিড়িয়াখানার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের আচরণে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কখনও তারা খেলাধুলা করছে, আবার কখনও মেজাজের পরিবর্তন হচ্ছে। মাঝে মাঝে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা একে অপরকে আঁকড়ে ধরছে।
নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রদীপ মিরাসে জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাণীগুলির মানসিক চাপ কমাতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।তারা কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ওড়িশায় পৌঁছল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Comment