---Advertisement---

খোয়াইয়ের বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে পরীক্ষা সূচি নিয়ে বিশৃঙ্খলা: প্রতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বাড়তি ৩০ দিন চুরি করার নতুন কৌশল শিক্ষা দপ্তরের!

By Suman Debnath

December 8, 2025 12:32 PM

---Advertisement---

ত্রিপুরা টিভি | যশপাল সিং, ত্রিপুরা, ৭ ডিসেম্বর, রবিবার: প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৩৬৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত আনুমানিক ২৪০ দিনের ‘ওয়ার্কিং ডে’ থেকেও কার্যত আরও বাড়তি ৩০–৩১ দিন চুরি করতে চলেছে শিক্ষা দপ্তর—এমনই অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার দোহাই দিয়ে এই ছলচাতুরীর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

কিন্তু আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে খোয়াই থেকে। বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পাধীন বিশেষ করে খোয়াইয়ের স্কুলগুলিতে পিরিয়ডিক টেস্ট–২ গ্রহণের সময়সূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা দপ্তরের এলোমেলো সিদ্ধান্তই এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী। সিবিএসই জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পিরিয়ডিক টেস্ট–২ গ্রহণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন স্কুল সেই নির্দেশ মানেনি। কোথাও নভেম্বরেই পরীক্ষা শুরু হয়েছে, কোথাও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। আবার কিছু বিদ্যালয় দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষা নেবে বলে জানিয়েছে। শহরের একটি নামী বিদ্যালয়ে তো এখনও পরীক্ষার তারিখই ঘোষণা করা হয়নি। ফলে একই অঞ্চলের স্কুলগুলির সূচিতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অভি দেবনাথের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে সাবরুম অনূর্ধ্ব-১৩ স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন সাবরুম ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ স্কুল!

অভিভাবকদের আশঙ্কা, যেসব স্কুল আগে পরীক্ষা শুরু করেছে তারা বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাবে, আর যেসব স্কুল এখনও তারিখ জানায়নি বা দেরিতে পরীক্ষা নেবে, তাদের শিক্ষার্থীদের হাতে ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপর অপ্রত্যাশিত চাপ তৈরি হচ্ছে বলেই অভিযোগ।

এদিকে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচির কথা মাথায় রেখে শিক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে শুরু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন—প্রতি বছরই তো এই সময়ে বোর্ড পরীক্ষা হয়। তাহলে প্রতি শিক্ষাবর্ষেই কি শিক্ষার্থীদের থেকে এক মাস করে কেটে নেওয়া হবে?

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধানশিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের অনলাইন–অফলাইন টাস্ক সামলাতে গিয়েই শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না তাঁরা। সূত্রের দাবি, নতুন টেট উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষকই নিয়ম–সময়নুবর্তিতার ক্ষেত্রে মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ, আর সরকারি স্কুলে প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হয়েছে দপ্তর।

আরও পড়ুন:  ধর্মনগরে ভি-মার্টে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি!

অভিভাবকদের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন কীভাবে সম্ভব? খোয়াই জেলা শিক্ষা দপ্তর ও বিদ্যালয় পরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের কথায়, দপ্তরের কর্তারা উদ্বোধন, ফিতা কাটা ও মঞ্চসভাতেই বেশি ব্যস্ত, কিন্তু স্কুল পরিদর্শন কার্যত শূন্য। ফলে স্কুলগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর তার খেসারত দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা দপ্তরের প্রতি অভিভাবকদের ক্ষোভ চরমে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment