হিন্দু ধর্ম-দর্শন এবং কালীপুজো
ঈশ্বর সর্বব্যাপক, বলা হয়ে থাকে অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বর। অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বরের ব্যাপকতা অচিন্তনীয়। তবু সীমাবদ্ধ চেতনা দিয়ে মানুষ ঈশ্বরের স্বরূপ বুঝার চেষ্টা করে। এই চেষ্টা অনাদিকাল হতেই চলছে, হয়তো চলতেই থাকবে। ঈশ্বরের স্বরূপ বুঝার এই চেষ্টার মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক প্রশান্তি ও গভীর আনন্দ আছে। অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বরের স্বরূপ একেকজনের নিকট এক-এক রকম। আবার, অনুসন্ধানী ব্যক্তির জ্ঞান অনুযায়ী তিনি ঈশ্বরকে করে দেন সীমাবদ্ধ। ধরুন, চার জন অন্ধ মানুষকে একটি বিশাল হাতির নিকট নিয়ে যাওয়া হল। এদের মধ্যে কেউ স্পর্শ করল হাতির শূড়, কেউ হাতির কান, অন্য জন হাতির পেট, সর্বশেষ ব্যক্তি হাতির পা স্পর্শ করল। এরপর, তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হল হাতির আকৃতির ব্যাপারে। প্রথমজন উত্তর দিলেন হাতি সাপের মতো, দ্বিতীয়জন বললেন হাতি কুলোর মতো, তৃতীয়জন বললেন হাতি দেয়ালের মতো, চতুর্থজন বললেন হাতি ঘরের খুঁটি/খাম্বার মতো। এদের যার যার নিকট হাতির স্বরূপ যেমন মনে হয়েছে, তারা ঠিক তেমন বলেছেন। কেউ কি অসত্য বলেছেন- না; আবার তাদের উপলব্ধি কি হাতির স্বরূপ সম্পর্কে নিত্য সত্য–সেটাও না। হাতির শূড় সাপের মতো সেটা আংশিক সত্য, হাতির কান কুলোর মতো সেটাও আংশিক সত্য, তদ্রুপ হাতির পেট দেয়ালের মতো, পা খুঁটি বা খাম্বার মতো এসব কিয়দাংশে সত্য। তবুও হাতির পূর্ণ স্বরূপ এই উপলব্ধিজাত বোধ হতে অনেকাংশেই দূরতম বটে, তা বলাইবাহুল্য!
আবার, অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বরের স্বরূপকে উপলব্ধি করতে গিয়ে উদ্ভুত বোধ হতেই মানুষ ঈশ্বরকে নিজের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ করে ফেলেন। ব্যক্তি বিশেষ-এর উপলব্ধিজাত জ্ঞানের সাথে তার মানসপটে আঁকা ঈশ্বর সম্পর্কে এই নির্দিষ্ট সীমারেখা আনুপাতিক। যেমন, একজন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন তিন হতে পাঁচ বিয়োগ করলে ফলাফল কত হবে, তবে ওই শিক্ষার্থী প্রশ্নকর্তাকে অঙ্কের জ্ঞান শূন্য একজন বোকা মানুষ ভেবে হাসি-তামাশা করতে পারেন। কারন, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ওর মাস্টার মশাই শিখিয়েছেন শুধুমাত্র বড় সংখ্যা হতে ছোট সংখ্যা বিয়োগ করা যায়, ছোট সংখ্যা হতে বড় সংখ্যা নয়। তাই, শিশুটির উপলব্ধিজাত জ্ঞান অনুযায়ী প্রশ্নকর্তা একজন অজ্ঞানী বোকাসোঁকা মানুষ বলেই প্রতীয়মান। কিন্তু, একই প্রশ্ন যদি সপ্তম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে সাবলীলভাবে উত্তর দেবে মাইনাস দুই (-২)। এভাবেই উপলব্ধিজাত জ্ঞান অনুযায়ী মানুষ ঈশ্বরকে নিজস্ব সীমারেখায় সীমাবদ্ধ করে ফেলেন।
তাহলে, মানব মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে-ঈশ্বর কেমন? বোধকরি, সরলতম উত্তর – ঈশ্বর নরম কাদামাটির মতো! মানুষ ভক্তি-বিশ্বাসে তাঁকে বিভিন্ন রূপে, নানা আকার, আকৃতিতে সাকাররূপে উপাসনা করছেন। ভক্তিরসের কল্পনায় তৈরি হয়েছে নানা প্রতিমা-বিগ্রহ। বৃহত্তর ভাবনায় জগতের প্রত্যেক প্রতিমা-বিগ্রহে ঈশ্বরসত্ত্বা বিদ্যমান। তদ্রুপভাবে, অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বর নরম কাদামাটির মতোই নিরাকার; শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি আকার-আকৃতিতে তাঁকে সীমাবদ্ধ করলেই অনন্ত চৈতন্যময় ঈশ্বরের প্রতি অশ্রদ্ধা করা হয়, সীমারেখা টেনে দেয়া হয় তাঁর সর্বব্যাপকতায়, এটাও নিত্য সত্য।
সত্য, সুন্দর শাশ্বত সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ, সমস্ত শাস্ত্রের চূড়ামণি, পরম পবিত্র বেদে উল্লেখ রয়েছে-
“একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি,
অগ্নিং যমং মাতরিশ্বানমাহুঃ।।”
[ঋক বেদ,১/১৬৪/৪৬]
পরমসত্য, পরব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়। ব্রহ্মজ্ঞানী ঋষিগণ, পণ্ডিত ও জ্ঞানীগণ সেই এক ঈশ্বরকেই ইন্দ্র, অগ্নি, যম, মাতরিশ্বা প্রভৃতি বহু নামে অভিহিত করেন।
পরম পবিত্র বেদে আরো উল্লেখ রয়েছে –
“সুপর্ণং বিপ্রা কবয়ো
বচোভিরেকং সন্তং বহুধা কল্পয়ন্তি।”
[ঋকবেদ, ১০/১১৪/৫]
পরমাত্মা বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানী কবি ও ঋষিগণ নিজ নিজ স্তুতি বাক্যের মাধ্যমে তাঁকে বহুরূপে বা বহুনামে কল্পনা ও বর্ণনা করেন।
বাস্তবিকভাবে, বিশ্ব প্রপঞ্চে যা কিছু বিদ্যমান, কোন কিছুই ঈশ্বর হতে বিচ্ছিন্ন নয়, অর্থাৎ অভিন্ন। তবু, তিনি স্রষ্টা, আমরা তাঁর সৃষ্টি- এই নিত্য সত্য ভিত্তিক বিশ্বাসে মানুষ তাঁর উপাসনা করে। স্রষ্টা যিনি, তিনি তো মাতৃস্বরূপা-ভক্তিরসের এই বিশ্বাস বোধকরি মধুরতম, পবিত্রতম। বাৎসল্য ভালোবাসায় মা’কে যেভাবে সন্তান ডাকে, সার্বিক আশ্রয়-আলয় মনে করে, এরূপ সরলতমভাবে ঈশ্বর-উপাসনা অনন্য সুন্দর।
পরম পবিত্র ঋক বেদের দশম(১০) মণ্ডল, দশম(১০) অনুবাক, একশত পঁচিশতম (১২৫) সূক্তের প্রথম মন্ত্রে (দেবীসূক্ত) পরব্রহ্ম উচ্চারণ করেছেন-
‘ওঁ অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহ-
মাদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।
অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহ-
মিন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোভা।।’
আমিই একাদশ রুদ্র, অষ্টবসু, দ্বাদশ আদিত্য এবং বিশ্বদেবগণের রূপে বিচরণ করি। মিত্র ও বরুণ, ইন্দ্র ও অগ্নি এবং অশ্বিনীকুমারদ্বয়কে আমিই ধারণ করি, সুরক্ষা প্রদান করি এবং অভিন্ন।
সুধাসমুদ্রের মনিদ্বীপে স্থিত পরমতত্ত্ব, পরব্রহ্ম ভুবনেশ্বরী জগন্মাতা সৃষ্টির প্রতিটি স্পন্দন, প্রাণ ও চেতনার উৎস। সৃষ্টির আদিতে তিনি নিজ ইচ্ছায় সৃষ্টি করলেন কিংবা অন্যভাবে বলা যায় স্ব-ইচ্ছায় ধারণ করলেন আদি পরাশক্তি মাতা কুষ্মাণ্ডা রূপ। আদিম সৃষ্টিকর্তা মাতা কুষ্মাণ্ডা, মৃদু হাসির ঐশ্বরিক তেজে সৃষ্টি করলেন এক মহাজাগতিক ভিম্ব। এই মহাজাগতিক ভিম্ব বা সৃষ্টিজগত পরিচালনার জন্য নিজ চক্ষু হতে তিন মহাশক্তিকে প্রকট করেন কিংবা বিপরীতে এভাবেও বলা যায়-মাতা কুষ্মাণ্ডা নিজেই নিজেকে বিভাষিতা করলেন তিন মহাশক্তিতে। কুষ্মাণ্ডার বাম চক্ষু হতে মহাকালী, ডান চক্ষু হতে মহাসরস্বতী এবং তৃতীয় চক্ষু হতে মহালক্ষ্মী প্রকটিত হন। পরবর্তীতে এই তিন মহাশক্তি হতেই ত্রিদেব- গৌণ সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা, গৌণ পালনকর্তা বিষ্ণু এবং গৌণ সংহারকর্তা সংহারী রুদ্রের আবির্ভাব ঘটে এবং সৃষ্টির কার্যধারা এগিয়ে চলে।। আমাদের নিত্য পাঠ্য ধর্মগ্রন্থ শ্রীচণ্ডীর প্রতি দৃষ্টি নির্বন্ধ করলে দেখা যায় মহাকালী চণ্ডীর প্রধান তিনটি ভাগের ‘প্রথম চরিত্র’-এর প্রধান অধিষ্ঠাত্রী দেবী।
কল্পান্তে, অর্থাৎ প্রলয়কালে বিষ্ণু যখন যোগমায়ার ইচ্ছায় যোগনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন, তখন মধু ও কৈটভ নামক দৈত্যের সৃষ্টি হয়। দৈত্যদ্বয় ব্রহ্মাকে হত্যার জন্য উদ্যত হলে ব্রহ্মা বিষ্ণুকে যোগনিদ্রায় মগ্ন রাখা যোগমায়ারূপ পরমেশ্বরী মহাকালীর স্তব শুরু করেন।
‘ব্রহ্মা উবাচ
পরা পরাণাং পরমা ত্বমেব পরমেশ্বরী।
যচ্চ কিঞ্চিৎ কবচিদবস্তু সদসদ বাখিলাত্মিকে।।
তস্য সর্বস্য যা শক্তিঃ সা ত্বং কিং স্তূয়সে ময়া।
যয়া ত্বয়া জগৎস্রষ্টা জগৎপাতাত্তি যো জগৎ।।’
[প্রথম অধ্যায়, শ্লোক-৮২,৮৩]
‘হে বিশ্বরূপিণি, হে পরব্রহ্মের মহাশক্তি, যে কোনও স্থানে যাহা কিছু চেতন বা জড় বস্তু অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে হইবে সেই সকলের যে শক্তি, তাহা আপনিই। সুতরাং, আপনার স্তব কীরূপে করিব? বিশ্বপ্রপঞ্চে আপনি ভিন্ন আর কিছুই নাই, তখন আপনার স্তব কীরূপে সম্ভব?’
অতপর, ব্রহ্মার আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে পরমেশ্বরী মহাকালী বিষ্ণুকে যোগনিদ্রা হতে জাগ্রত করলেন এবং বিষ্ণু, মধু ও কৈটভকে হত্যা করলেন।
চণ্ডীর ‘উত্তম চরিত্র’-এ আমরা মহাকালীর অন্য দুটি ভয়ংকর রণরূপ দেখতে পাই, যেখানে তিনি দেবী চণ্ড ও মুণ্ড নামক অসুরবিনাশিনী চামুণ্ডা এবং রক্তবীজকে প্রসারিত জিহবা দিয়ে সমস্ত রক্ত শুষে নিপাতকারী কালী।
ঋষি অরবিন্দের মতে-কালী ভয়ংকরী নন, বরং পরম করুণাময়ী। কালীর এই ভয়ংকর রূপ কেবলমাত্র অসত্য, অহংকার ও অন্ধকার নাশের জন্য। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন-ঈশ্বরতত্ত্বের কালী আরাধনা কোন ভীরু মানুষের জন্য নয়।
সত্য, সুন্দর, শাশ্বত সনাতন হিন্দু ধর্মে সাকার পদ্ধতিতে ঈশ্বর উপাসনায় পঞ্চমত উল্লেখিত। তবে, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই পঞ্চমত হয়ে গিয়েছে অসংখ্য মত! তাই হিন্দু ধর্মের অনেক বোদ্ধা ব্যক্তিগণ বিভিন্ন পৌরাণিক স্মৃতিশাস্ত্রের শাস্ত্রীয় তথ্য-উপাত্ত, শ্লোক ইত্যাদি দিয়ে সাকার উপাসনার বিভিন্ন মত বিশেষ ভাবে পঞ্চমতের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একটি সমন্বয় করার প্রচেষ্টা করে চলেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত ইতিবাচক, প্রচেষ্টা অত্যন্ত গঠনমূলক, তবে এরূপ কাজের স্থিতি প্রায় শুন্য; ঠিক বালির বাধের মতোই।
হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রীয় দর্শন সুবিশাল। সাধারণ আমজনতা, নিতান্ত সাধাসিধে একজন গৃহস্থ-গৃহিণীর নিকট ধর্মীয় দর্শন সঠিক এবং সহজভাবে উপস্থাপনের দায়িত্ব আমাদের। শুধুমাত্র পৌরাণিক স্মৃতিশাস্ত্রের তথ্য বিবরনীতে সাকার উপাসনার পঞ্চমতকে সমন্বয় করতে গেলে ‘হযবরল’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বৈকি, কিন্তু প্রকৃত সমন্বয় হবে না, তাসের ঘরের মতো বিফল হবে সেই কর্মপ্রচেষ্টা।
হিন্দুধর্মীয় যেকোন শাস্ত্রীয় ব্যখ্যা হবে অতি আবশ্যিক ভাবে শ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে-
‘শ্রুতিস্মৃতি বিরোধে তু শ্রুতিরেব গরীয়সী।
অবিরোধে সদা কার্যং স্মার্তং বৈদিকবৎ সদা।’
অর্থাৎ, শ্রুতি(বেদ) ও অন্যান্য শাস্ত্রের মধ্যে কোথাও, কখনও বিরোধ দেখা দিলে শ্রুতিই চূড়ান্ত বলে মান্য হবে। আর, যদি কোন বিরোধ না থাকে, তবে বেদবাক্যের মতোই অন্যান্য শাস্ত্রীয় অনুশাসন পালনীয়।
বিশ্বের একশো ত্রিশ(১৩০) কোটি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জাতিগত একটি সুসমন্বয়ের মতো মহৎ উদ্দেশ্যেও অশাস্ত্রীয় কিংবা তালগোল পাকানো, হযবরল ধর্মীয় ব্যখ্যা একদম অনুচিত। তাহলে, উদার এই ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে নিতান্ত কিছু জাতিগত স্বার্থের প্রশ্নে একই ছাতার নিচে আনতে আমাদের করণীয় কী? হ্যা, করণীয় নিশ্চয়ই রয়েছে। তিনটি মৌলিক বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যধারা এগিয়ে গেলে নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদী ফললাভ সম্ভব। আমাদের প্রয়োজন এই তিনটি মৌলিক আদর্শের সমন্বয়-
১. উপাসনা পদ্ধতির তফাৎ সংক্রান্ত আদর্শে,
২. বর্ণভেদ নিয়ে তফাৎ সংক্রান্ত আদর্শে এবং
৩. ভাষাগত তফাৎ সংক্রান্ত আদর্শে।
অর্থাৎ, আপনি নিরাকার ঈশ্বরের উপাসক বা সাকার উপাসক; কিংবা, সাকার উপাসনার যেকোন মতাবলম্বী, সর্বোপরি আপনি হিন্দু। অন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন ব্যক্তি আর আপনার জাতিগত স্বার্থ এক ও অভিন্ন। আপনি জন্মসূত্রে বর্ণভেদ প্রথা মানেন না বা মানেন, আপনি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য কিংবা শুদ্র; সর্বোপরি, আপনি বর্ণভেদ প্রথা মানলেও হিন্দু, আর না মানলেও হিন্দু, আপনি (তথাকথিত) ব্রাহ্মণ হলেও হিন্দু, আর (তথাকথিত) শুদ্র হলেও হিন্দু। হিন্দু হিসেবে আপনাদের পরস্পরের জাতিগত স্বার্থ এক এবং অভিন্ন। আপনি বাংলা ভাষী, আপনি হিন্দি ভাষী, আপনি গুজরাটি ভাষী ইত্যাদি। কিন্তু, সর্বোপরি আপনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ভাষাগত তফাৎ থাকলেও হিন্দুধর্মী হিসেবে জাতিগত স্বার্থে আপনারা পরস্পর এক ও অভিন্ন সত্ত্বা।
এবার, এই তিনটি মৌলিক আদর্শের সমন্বয়ের দায়িত্বভার কে গ্রহণ করবেন? কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘কর্তব্যগ্রহণ’ কবিতায় বলেছেন-
‘কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যারবি-
শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি।
মাটির প্রদীপ ছিল; সে কহিল, স্বামী,
আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি।।’
তাই, আত্মপ্রত্যয়ী পাঠক-পাঠিকা মাত্রই এই কর্তব্যভার গ্রহণের সুযোগ্য অধিকারী।
দীপাবলির কালীপুজো হোক বিশ্বপ্রপঞ্চের সকল মানুষ, পশু-পাখি তথা সকল সৃষ্টিকুলের জন্য কল্যাণময়। গঠনমূলক আনন্দের বারতা নিয়ে আসুক কালীপুজো।
লেখক,
ডক্টর সুদীপ চন্দ্র হালদার
কবি এবং দার্শনিক
Leave a Comment