প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা | DRDO Pralay Missile Test

By Suman Debnath

November 6, 2026 9:55 AM

প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা | DRDO Pralay Missile Test


প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ওড়িশা উপকূলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় (Pralay) ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড়ান পরীক্ষা করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ডঃ এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় সেনার প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

প্রলয়ের সফল পরীক্ষার কথা প্রকাশ্যে আনেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সমস্ত নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে। বিভিন্ন রেঞ্জ ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

– Advertisement –

এই সাফল্যের জন্য ডিআরডিও, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনার প্রস্তুতিও বাড়বে।

কী কী বিশেষত্ব রয়েছে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের?

প্রলয় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি স্বল্পপাল্লার সারফেস-টু-সারফেস কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ, মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করে নির্দিষ্ট স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এর উড়ানের গতিপথে কৌশলগত পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে।

আরও পড়ুন:  সিকিমের তিস্তা টানেল বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ২২, গভীর সুড়ঙ্গে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর উদ্ধার অভিযান

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রলয়ের পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ওয়ারহেড বহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

– Advertisement –

এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে হায়দরাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত (Research Centre Imarat)। ডিআরডিও-র অন্যান্য গবেষণাগারও এই প্রকল্পে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করেছে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (Bharat Dynamics Limited)। অর্থাৎ, গবেষণা থেকে উৎপাদন—প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দেশীয় সংস্থার ভূমিকা রয়েছে।

পরীক্ষার সাফল্যের পর সেনায় অন্তর্ভুক্তির পথে প্রলয়

এবারের পরীক্ষাটি ছিল ব্যবহারকারী পর্যায়ের মূল্যায়ন বা User Evaluation Trial। এই পর্যায়ে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এবং নির্ধারিত কার্যক্ষমতার মাপকাঠি পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পরীক্ষায় সাফল্যের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীতে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি এখন আসন্ন।

পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরডিও-র পদস্থ আধিকারিক, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ডিআরডিও চেয়ারম্যান তথা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সচিব রাজেশ কুমার সিংও এই সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  ভাগবতজী, সংবিধান পড়ুন’, আরএসএস প্রধানকে বার্তা বৃন্দা কারাতের

দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একের পর এক সাফল্য

গত কয়েক বছরে দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রযুক্তির উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে ডিআরডিও। তারই অন্যতম উদাহরণ পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ওড়িশার চাঁদিপুরে এই রকেটের প্রথম সফল উড়ান পরীক্ষা হয়েছিল। সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়।

প্রলয়ের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বিশেষ করে প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষেত্রে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করলে প্রলয়ের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। তবে এই পরীক্ষাকে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ।

সব মিলিয়ে প্রলয়ের সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় বড়সড় অগ্রগতি। এবার নজর সশস্ত্র বাহিনীতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যতে তার কার্যকর ব্যবহারিক সক্ষমতার দিকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover







-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment