সৌরভ-অভিষেকের বিরুদ্ধে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র কেন? মোদীকে বিঁধেও উৎসবের মরশুমে আন্দোলন স্থগিতের ডাক অভিজিৎ দীপকের

By Suman Debnath

October 20, 2026 5:45 PM

সৌরভ-অভিষেকের বিরুদ্ধে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র কেন? মোদীকে বিঁধেও উৎসবের মরশুমে আন্দোলন স্থগিতের ডাক অভিজিৎ দীপকের


টানা দু’সপ্তাহ ধরে রাজধানীর রাজপথে চলা উত্তাপ, ধরপাকড় এবং আইনি টানাপড়েনের পর অবশেষে আন্দোলনে সাময়িক বিরতির কথা ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party-CJP)। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ এক ভিডিও বার্তায় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, দীপাবলি পর্যন্ত তাঁদের মঞ্চের তরফে নতুন করে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেই। দলের তরুণ কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি তাঁর আহ্বান, উৎসবের এই দিনগুলিতে রাজপথ ছেড়ে প্রত্যেকে যেন নিজেদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।

 উদ্বিগ্ন পরিবার

 সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় গত কয়েক দিনের পুলিশি অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন দীপকে। তিনি জানান, সামনেই উৎসবের মরশুম, অথচ গত কয়েক দিনে দিল্লির বুকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্যরা প্রবল দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দীপকে উল্লেখ করেন, তাঁর নিজের বাবা-মা থেকে শুরু করে বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

 পরিবারের সেই মানসিক চাপের কথা মাথায় রেখেই তরুণ সমর্থকদের আপাতত কয়েকটা দিন বাড়ির লোকেদের পাশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সিজেপি প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁদের এই লড়াই চলবে। ভয়ে তাঁরা পিছু হটছেন না। এবং মহাত্মা গান্ধীর দেখানো শান্তি ও অহিংসার পথেই তাঁদের আন্দোলন এগিয়ে যাবে।

 মোদীকে তোপ

আরও পড়ুন:  ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস

 একদিকে দীপকে যখন সাময়িক বিরতির কথা বলছেন, অন্যদিকে তখনও তিহাড় জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি রয়েছেন তাঁর দুই অন্যতম সহযোদ্ধা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। গত ১২ অক্টোবর যন্তরমন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং শান্তিরক্ষার চুক্তি ভাঙার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার আদালতের নির্দেশে তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন অর্থাৎ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে একই কাজ করবেন না বলে যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁদের আচরণের নিরিখে তা যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

 সহকর্মীদের জামিন না মেলায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, বয়সে প্রধানমন্ত্রীর নাতির সমতুল্য দুই তরুণকে জেলে আটকে রাখতে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে (state machinery) নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের আড়ালে লুকিয়ে থেকে দুই যুবককে কারাগারে রেখে প্রধানমন্ত্রী কি নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে করছেন, এই প্রশ্ন তুলে সরকারের মনোভাবকে ভীরুতা বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে এক সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনার সঙ্গে সিজেপি নেতাদের কারাবাসের তুলনা টেনে বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন দীপকে। সিজেপির আইনজীবী-কর্মী রত্না সিংহের দাবি, শুনানি পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্পষ্ট কারণে জামিনের আবেদন খারিজ করা আসলে কণ্ঠরোধের জন্য মানসিক নির্যাতনের কৌশল।

আরও পড়ুন:  CJP নেতাদের গ্রেফতারি মামলা: ফ্রান্সের ছাত্র বিক্ষোভের উদাহরণ দিল দিল্লি হাই কোর্ট, ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন

আন্দোলনের ভবিষ্যৎ

 মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর থেকেই দিল্লি উত্তাল করে তুলেছিল সিজেপি। গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে লহরা দো তিরঙ্গা সমাবেশের ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকে এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

 শান্তিরক্ষার চুক্তি ভাঙার অভিযোগে গ্রেপ্তারির পর শনিবার নতুন করে বন্ডে সই করে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পান দীপকে। জেল থেকে বেরিয়ে ফোনে ওয়াই-ফাই না থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে সমাজমাধ্যমে রসিকতা করলেও, দুই সহযোদ্ধার মুক্তির আইনি লড়াইয়ে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। আপাতত দীপাবলি পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি স্থগিত রাখায় উৎসবের মরশুমে দিল্লি পুলিশ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, উৎসব মিটলে ফের নতুন কৌশলে আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে এই নাগরিক মঞ্চ।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment