‘বামেদের বুক স্টলে হামলা নিন্দনীয়’, ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী

By Suman Debnath

October 19, 2026 12:10 PM

‘বামেদের বুক স্টলে হামলা নিন্দনীয়’, ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী


প্রথম সপ্তমীর দিন বিকেল থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বামেদের সমস্ত স্টল ভাঙার জন্য তৎপর ছিল। এসেছিল ময়লা ফেলার গাড়ি। একটি বুলডোজার আসতেই সেটা প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তবে মানবাধিকার সংগঠনের একটি স্টল ও এসইউসির স্টল ভাঙা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের মুখে পড়েন এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত-সহ অন্যান্যরা। দ্বিতীয় সপ্তমীর সকালে দেখা যায়, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন দলের ছাত্র সংগঠন আইসার স্টল পুলিশের হস্তক্ষেপে আবার খোলা হয়। এবার বামেদের বুক স্টলে হামলার ঘটনা নিয়ে কড়া নিন্দা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

এদিকে গত কদিন ধরে কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে দুর্গাপুজো মণ্ডপের সামনে বামেদের বুক স্টল ভাঙচুর করার খবর সামনে এসেছে। সপ্তমীর রাতেই যাদবপুরে বামেদের দুটি বুক স্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই স্টল ভাঙার ঘটনার কড়া নিন্দা করে বলেন, ‘বামেদের বুক স্টলে হামলা নিন্দনীয়। মাথা নত করে দিয়েছে। হামলা চালাল কারা, তাদের কে এই অধিকার দিয়েছে?’ এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। কারণ স্বপন দাশগুপ্ত পণ্ডিত লোক। বইয়ের উপর হামলা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন:  দলের নাম-প্রতীকের লড়াইয়ে ব্যস্ত মমতা-ঋতব্রত শিবির, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশের প্রস্তুতি তুঙ্গে

অন্যদিকে সিপিএমের ছাত্র নেতা  সৃজন জানান, স্টল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে করা মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ তারিখ। তবে সপ্তমীর দ্বিতীয় দিন নির্বিঘ্নে কেটেছে যাদবপুরের সিপিএমের বুক স্টল। বামেদের সমস্ত স্টলেই চোরবাগানের ঘটনায় মৃতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। যদিও বারাসতে নবপল্লির ভদ্র বাড়ি এলাকায় স্টল করার জন্য সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের রক্তাক্ত হতে হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই স্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন রুপোলি পর্দার মানুষজন। গায়ক রূপম ইসলাম, অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে এই কার্যকলাপের বিরোধিতা করেছেন।

তাছাড়া এই বুক স্টল ভাঙার ঘটনা নিয়ে দুর্গাপুজোর আবহে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘মাথা নত করে দিয়েছে। এরকম ঘটনা হতে পারে, একটা হলে বুঝতাম। কিন্তু তিন-চার জায়গায় হয়েছে। এটা কোনওভাবেই আমি মেনে নিতে পারব না। বামেদের সঙ্গে আমাদের একটা নৈতিক বিবাদ আছে। কিন্তু তা বলে বই বিক্রি করতে দেবে না? তারা কারা? কে এই অধিকার দিয়েছে? এটা নিন্দনীয়। আমি লজ্জিত। এটা যেন কোনওদিন না হয়। আমাদের নামে এগুলো করছে কে? কে সাহস দিয়েছে তাদের?’

আরও পড়ুন:  নার্সদের পোশাকে স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া গাইডলাইন, সরকারি হাসপাতালে কড়া হচ্ছে নিয়ম

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment