মহালয়ায় মেগা প্রস্তুতি-দুর্গাপুজোয় পুলিশি কড়া নজরদারি, হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন কলকাতার পুলিশ কমিশনারের

By Suman Debnath

October 6, 2026 5:20 PM

মহালয়ায় মেগা প্রস্তুতি-দুর্গাপুজোয় পুলিশি কড়া নজরদারি, হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন কলকাতার পুলিশ কমিশনারের


বাঙালির প্রিয় উৎসবে যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য এবার তৎপর কলকাতা পুলিশ। পুজোর সময়ে গোটা কলকাতাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শহরের বড় প্যান্ডেলগুলি-সহ ছোটখাটো সব পুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবার ‘স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর’ মেনে এগোনো হচ্ছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ মঙ্গলবার শহরের একাধিক হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

কলকাতার হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন অজয় নন্দ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নাগরিকদের সুরক্ষা বজায় রাখাই পুলিশের মূল অগ্রাধিকার। সূত্রের খবর, চলতি বছরে কলকাতা পুলিশ এলাকায় ৩০০টিরও বেশি নতুন পুজো অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। কাগজপত্র যাচাই এবং সরজমিনে এলাকা পরিদর্শনের কাজ শেষ হলে আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই নতুন পুজো অনুমোদনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

পুলিশের বিশেষ প্রতিনিধি দল শহরের একাধিক বড় ও ঐতিহ্যবাহী পুজো পরিদর্শনে বেরিয়েছে। শীর্ষ পুলিশ কর্তারা চেতলা অগ্রণী, সুরুচি সংঘের মতো শহরের বড় এবং জনবহুল প্যান্ডেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। মণ্ডপের সুরক্ষা ও ভিড় নিযন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? ​দর্শনার্থীরা যাতে ভালোভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, তার জন্য পুজো মণ্ডপগুলির প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  তথ্য কমিশনের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারের স্ত্রী সঞ্চিতা
Kolkata Police Commissioner
Photo: Statesman

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, মণ্ডপে যাতে কোথাও ভিড় বা হুড়োহুড়ির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার জন্য ক্রাউড সার্কুলেশন সিস্টেম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা আগেই পোর্টালে আবেদন করেছেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে পর্যাপ্ত ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা এনওসি দেওয়ার আগে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মণ্ডপের ভেতরের পরিস্থিতি সর্বক্ষণ নজর রাখা হবে।

কোনও নির্দিষ্ট পুজোর থিম অনেক সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে সেই মণ্ডপগুলিতে বিপুল জনস্রোত দেখা যায়। অজয় নন্দের কথায়, ‘দর্শনার্থীদের এই আবেগ একটা আনপ্রেডিক্টেবল ভ্যারিয়েবল। কিন্তু সেই অতিরিক্ত ভিড় সামলানোই আমাদের পরীক্ষা। তাই মণ্ডপ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে আমরা আগাম ব্যাকআপ প্ল্যান তৈরি রাখছি।’ ​পার্ক স্ট্রিটের মতো এলাকায় পুজোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাইটলাইফের নানা আয়োজন থাকে।

আরও পড়ুন:  জল জীবন মিশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি!
Kolkata Police Commissioner
Photo: Statesman

পার্ক স্ট্রিটে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তাই গাড়ি চলাচল এবং পথচারী, উভয়ের সামঞ্জস্য রাখতে কলকাতা পুলিশ একটি ‘ফাইন ব্যালেন্স’ রক্ষা করে কাজ করবে। ট্রাফিক যাতে অচল না হয় সেই সঙ্গে দর্শনার্থীদের চলাফেরাতেও যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেটা দেখাই মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: হেরিটেজ তকমা পাচ্ছে চিত্তবাবুর দোকান, তালিকায় আর কোন কোন দোকান রয়েছে?

উল্লেখ্য, ​আগামী ১০ তারিখ মহালয়ার দিন কলকাতায় বড় কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। ইডেন গার্ডেন্সে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শোয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইডেন গার্ডেন্স এবং সংলগ্ন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। ডায়নামিক ট্রাফিক রুট ও সিসিটিভি ড্রোন সার্ভেইল্যান্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment