বিনা বিচারে দু’বছর জেলে, এখনও গঠন হয়নি চার্জ, ২ অভিযুক্তকে জামিন হাইকোর্টের

By Suman Debnath

September 26, 2026 2:45 PM

বিনা বিচারে দু’বছর জেলে, এখনও গঠন হয়নি চার্জ, ২ অভিযুক্তকে জামিন হাইকোর্টের


দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। কিন্তু এখনও মামলায় চার্জ গঠন হয়নি। চার্জশিটে আবার ৮৫ জন সাক্ষীর নাম রয়েছে। ফলে বিচার কবে শুরু হবে বা কবে শেষ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিচারের অধিকার এবং দীর্ঘদিন জেলে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে দুই অভিযুক্তকে জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

তবে একই মামলার আরও দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে আদালত। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সেই মামলাগুলির মধ্যে খুনের অভিযোগও রয়েছে। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি রিশাদ মেডোরার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। এই মামলায় মোট ১৯ জন অভিযুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, বিস্ফোরক আইন এবং আগ্নেয়াস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। একজন অভিযুক্ত নাবালক। আরও তিন অভিযুক্ত হল মহম্মদ তানভীর, মহম্মদ সোহাইব আখতার এবং আকাশ সিং।

চার অভিযুক্তের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাঁদের মক্কেলদের ভূমিকা আগেই জামিন পাওয়া তিন অভিযুক্তের থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। তাঁরা আরও জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে জেলে থাকার পরও চার্জ গঠন হয়নি। তার উপর মামলায় ৮৫ জন সাক্ষী থাকায় বিচার শেষ হতে আরও অনেক সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন:  গাজোলে উদ্ধার ৪১ লক্ষ টাকা ও ৫৬৮ গ্রাম ব্রাউন সুগার, ধৃত ২

আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, এভাবে দীর্ঘদিন বিচার শুরু না করে কাউকে জেলে রাখা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এ থাকা ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং দ্রুত বিচারের অধিকারের প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষের আইনজীবী অরুণ মাইতি জামিনের বিরোধিতা করে। তদন্তকারী সংস্থা আদালতে সাক্ষীদের বয়ান, শনাক্তকরণ প্যারেড, ছবি দেখে শনাক্তকরণ এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট-সহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বিশেষ করে মহম্মদ টিপু এবং ওয়াসিমুদ্দিন আনসারির বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির কথা জানায়। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং কিছু মামলায় খুনের অভিযোগও রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। টিপুর আগে আত্মগোপন করে থাকার বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করে।

হাইকোর্ট জানায়, শুধু দীর্ঘদিন জেলে থাকলেই কোনও অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় জামিন পাবেন না। জামিন দেওয়ার সময় অভিযুক্তের ভূমিকা, মামলার গুরুত্ব, আগের অপরাধের রেকর্ড এবং জামিনে বেরিয়ে তিনি আবার অপরাধ করতে পারেন কি না বা মামলার সাক্ষী ও প্রমাণের উপর প্রভাব ফেলতে পারেন কি না, এসব বিষয়ও দেখতে হবে।

এই কারণেই মোহাম্মদ টিপু এবং ওয়াসিমুদ্দিন আনসারির জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত। অন্যদিকে, মোহাম্মদ আবেদ খান ওরফে বান্টি এবং মোহাম্মদ আরিফের ক্ষেত্রে আদালত তাঁদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে মনে করেছে। আদালতের মতে, তাঁরা আগে জামিন পাওয়া তিন অভিযুক্তের সঙ্গে অনেকটাই একই অবস্থানে রয়েছেন। আরিফ-এর বিরুদ্ধে যে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতেও খুনের অভিযোগ নেই।

আরও পড়ুন:  ফের শনি-রবিতে বড়সড় বিঘ্ন ট্রেন চলাচলে, হাওড়া ডিভিশনে সতর্কতা

তাই শেষ পর্যন্ত আবেদ খান এবং মোহাম্মদ আরিফকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার বন্ড এবং একই পরিমাণ টাকার দু’জন জামিনদার দিতে হবে। তাঁদের মধ্যে একজনকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাইরে যেতে পারবেন না। সপ্তাহে একদিন এনআইএ-র কাছে হাজিরা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ভাটপাড়া ও জগদ্দল থানা এলাকায় ঢুকতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: শরতের আকাশে মেঘের ঘনঘটা, সপ্তাহান্তেও কি বৃষ্টিতে ভিজবে উত্তর-দক্ষিণ?

মামলার প্রতিটি শুনানিতেও তাঁদের এনআইএ আদালতে হাজির থাকতে হবে। কোনও সাক্ষীকে ভয় দেখানো, প্রমাণ নষ্ট বা প্রভাবিত করা কিংবা নতুন কোনও অপরাধে জড়ানো যাবে না। এই শর্তগুলির কোনওটি ভাঙলে আইন অনুযায়ী তাঁদের জামিন বাতিল করা যেতে পারে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment