‘খাম’ গেল ঋতব্রতদের হাতে, ক্ষুব্ধ নওশাদ! উপনির্বাচনের আগে আইএসএফ বনাম কমিশন

By Suman Debnath

September 18, 2026 9:10 PM

‘খাম’ গেল ঋতব্রতদের হাতে, ক্ষুব্ধ নওশাদ! উপনির্বাচনের আগে আইএসএফ বনাম কমিশন


উপনির্বাচনের মুখে প্রতীক-জট ঘিরে আরও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আইএসএফের পরিচিত ‘খাম’ প্রতীক অন্য একটি দলকে বরাদ্দ করা নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই বিরোধীদের কোণঠাসা করতে আইএসএফের ব্যবহৃত প্রতীক অন্য দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

নওশাদের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন আগেই আইএসএফকে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছিল। সেই অনুযায়ী দলের তরফে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফর্মও জমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, আসন্ন উপনির্বাচন যেহেতু ২০২৬ সালের মূল নির্বাচনের পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ, তাই আচমকা সেই প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়েও নওশাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একই অভিযোগ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ওই কেন্দ্রে আইএসএফের লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ‘খাম’ প্রতীক অন্য পক্ষকে দিয়ে আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

আরও পড়ুন:  মন্ত্রী ক্ষুদিরামের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক - Dainik Statesman

ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে আইএসএফ। নওশাদের হুঁশিয়ারি, কমিশনের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ না করা হলে আইনি পথে যাবে দল।

‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের অন্দরের বিবাদের জেরেই তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেয়। এরপর বিবদমান দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়। ঋতব্রতপন্থী অংশের নাম হয় ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, তাদের প্রতীক ‘খাম’। অন্যদিকে মমতাপন্থী অংশও পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে মাঠে নামছে।

তবে কমিশনের নিয়মের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইএসএফ পশ্চিমবঙ্গে স্বীকৃত রাজ্য দল নয়। ফলে তাদের কোনও সংরক্ষিত বা স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীক নেই। কমিশনের খাতায় দলটি নির্দল শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর ফ্রি সিম্বলের তালিকা থেকেই প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার কথা। অন্যদিকে, বিবদমান দুই তৃণমূল অংশ নিবন্ধিত দল হওয়ায় নিয়ম মেনেই তাদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:  নেতাজিকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা, ফের নেতাজি ফাইল প্রকাশের দাবি তুললেন তৃণমূল নেত্রী

তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়েও সরব নওশাদ। তাঁর অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে প্রার্থী প্রত্যাহারের ‘পুরনো সংস্কৃতি’ আবার ফিরেছে। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কার্যকর বিরোধী শক্তির প্রয়োজন। ফলে উপনির্বাচনের আগেই প্রতীক-বিতর্কে আইএসএফ বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।

 

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment