ভুয়ো চিকিৎসক নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স, ওয়েস্ট বেঙ্গল। ভুয়ো বা জাল নথির ভিত্তিতে কী ভাবে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হল, তা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
সম্প্রতি, পূর্ব বর্ধমানে অস্ত্রোপচারের পরে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার পরেই ভুয়ো চিকিৎসক ও জাল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে বলে সংগঠনের দাবি। অভিযোগ, কয়েক জনের চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাঁদের কাছে ছিল মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
চিকিৎসকদের সংগঠনের বক্তব্য, শুধু ভুয়ো চিকিৎসক চিহ্নিত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আসল প্রশ্ন, তাঁরা রেজিস্ট্রেশন পেলেন কী ভাবে? তাঁদের এমবিবিএসের শংসাপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি, ইন্টার্নশিপের প্রমাণ-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কে যাচাই করেছিল, রেজিস্ট্রেশন কে অনুমোদন করেছিলেন— সবই তদন্ত করে দেখা দরকার।
চিঠিতে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার পিছনে কোনও চক্র কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, এ নিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথাও শোনা যাচ্ছে। কোনও মধ্যস্থতাকারী ছিল কি না, টাকা লেনদেন হয়েছিল কি না— তদন্তে সে সবও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে তদন্ত শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনায় আটকে না রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছে সংগঠন। ২০১৩-১৮, ২০১৮-২৩ এবং ২০২৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিভিন্ন মেয়াদে দেওয়া রেজিস্ট্রেশনগুলি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। জাল বা সন্দেহজনক নথির ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখেই সাধারণ মানুষ তাঁর উপর ভরসা করেন। তাই সেই রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেই যদি গলদ থাকে, তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করতে নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি, দাবি চিকিৎসকদের সংগঠনের।
Leave a Comment