আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠন গোছাতে ব্যস্ত বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই দলের মিডিয়া বিভাগ ও মুখপাত্রদের তালিকায় বড়সড় রদবদল করল পদ্মশিবির। নতুন সাংগঠনিক তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু এবং বিজেপি নেতা প্রণয় রায়ের মুখপাত্র হিসেবে প্রত্যাবর্তন।
রবিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শশী অগ্নিহোত্রী।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, বঙ্গ বিজেপির মুখ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইনজীবী দেবজিৎ সরকারকে। তাঁর সঙ্গে দলের মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন আরও ১৪ জন—রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বসু, কেয়া ঘোষ, প্রণয় রায়, ড. তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওফেলিয়া সিংহ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, ড. নিখিল প্রসূন সিংহ, শমীক দাশগুপ্ত, সুদীপ্ত গুহ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর ঋত্বিক পাল। সপ্তর্ষি চৌধুরী দলের পত্র-পত্রিকা সংক্রান্ত দায়িত্বও সামলাবেন।
একই সঙ্গে মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক করা হয়েছে অনুপম ঘোষকে। যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন পার্থসারথি চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর বাসুতিয়া। দলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার আহ্বায়ক হয়েছেন জয় মল্লিক। সামাজিক মাধ্যম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপমন্যু ভট্টাচার্যকে।
এই রদবদলের সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। দু’দিনের এই বঙ্গ সফরে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের রণকৌশল নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। সর্বভারতীয় সভাপতির সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য দফতরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে।
তার ঠিক আগেই মিডিয়া ও মুখপাত্রদের তালিকায় এই পরিবর্তনকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহেই ২৭০ সদস্যের বিস্তৃত রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল ও শঙ্কর ঘোষ-সহ একাধিক নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়।
নতুন মুখপাত্র তালিকায় সায়ন্তন বসু ও প্রণয় রায়ের মতো পুরনো মুখদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নীতিন নবীনের বঙ্গ সফরের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিজ্ঞ মুখদের আরও সক্রিয় করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও রাজনৈতিক বার্তা—দুই ক্ষেত্রেই জোর দিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









Leave a Comment