পশ্চিমবঙ্গে আবার গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। যেখানে মহিলাদের উপর নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে সেখানে পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে লাগাতার গণধর্ষণ করল কয়েকজন যুবক বলে অভিযোগ। মাঝরাতে বাড়ির পাঁচিল টপকে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গ্রামেরই কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা নিয়ে তেতে উঠেছে বীরভূম জেলার নানুর এলাকা। যেভাবে ওই যুবকরা লাগার ধর্ষণ করেছে বধূকে তার জেরে শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আর এই ঘটনার লজ্জা সহ্য করতে না পেরে ‘নির্যাতিতা’ বধূ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই নির্মম, নিষ্ঠুর ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ আগস্ট মাঝরাতে। এই লাগাতার গণধর্ষণে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতা বধূ। পরিস্থিতি পরে সামলে নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পর শনিবার গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই বধূর উপর নজর রাখা হয়েছিল। আর এবার সুযোগ পেয়েই ওই বধূর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট গ্রামের যুবকরা বলে অভিযোগ। তারপর লাগাতার অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ।
‘নির্যাতিতা’ গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কয়েকজন যুবক গৃহবধূদের বাড়ির পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকে। তখন বাড়ির কাছেই শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন ওই বধূ। সেটা দেখতে পেয়েই বধূর মুখ চেপে ধরে বাড়ির থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তদের হাতে অস্ত্র ছিল। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় গৃহবধূকে। গণধর্ষণের ঘটনার সময় গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে থাকলেও ঘুমোচ্ছিলেন। পরে ওই বধূর স্বামী গোঙানির শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন অবশ্য অভিযুক্ত যুবকরা পালিয়ে গিয়ছিল।
তবে সামাজিক লজ্জার কারণে স্বামী এই ঘটনাকে সামনে আসতে দেননি। এমনকী সামাজিক সম্মানহানির ভয় ও লজ্জায় গৃহবধূও প্রথমে কিছু বলতে চাননি। কিন্তু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ‘নির্যাতিতা’ বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে তখন তাঁকে ভর্তি করা হয়। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সব ঘটনা সামনে নিয়ে আসেন। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের দাবি, হাসপাতালে গিয়েও অভিযুক্ত যুবকদের পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ তুলে না নিলে দুই সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেটাও পুলিশকে জানিয়েছেন নির্যাতিতা বধূর পরিবার। পুলিশ সূত্রে খবর, এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
Leave a Comment