বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেলের মজুত তলানিতে | Amar Bangla BANGLADESH

By Suman Debnath

August 5, 2026 11:25 AM

বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেলের মজুত তলানিতে | Amar Bangla BANGLADESH


দেশের ৫৩টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের মজুত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। অনেক কেন্দ্র তেলের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে সারাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে, বেড়েছে লোডশেডিং।


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গড়ে ৭ থেকে ৮ দিনের বেশি ফার্নেস অয়েল মজুত নেই। স্বাভাবিক সময়ে এসব কেন্দ্রে অন্তত ১৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকার কথা। পরিস্থিতির কারণে এখন শুধু সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখা হচ্ছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৩টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট।


আরও পড়ুন:  পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বদলি | Amar Bangla BANGLADESH

পিডিবি জানিয়েছে, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এর ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না। এর সঙ্গে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ফার্নেস অয়েলের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


জানা গেছে, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ (আইপিপি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পিডিবির ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি তেল কিনতে পারছে না।


পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময়ে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।


তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) জানিয়েছে, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না।

আরও পড়ুন:  মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে নতুন দায়িত্বে ফজলুর রহমান


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশের অনেক তেলভিত্তিক কেন্দ্রে এক থেকে তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুত রয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে একেবারেই তেল নেই। অন্যদিকে মাত্র কয়েকটি কেন্দ্রে ১০ দিনের বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের যেসব এলাকায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে, সেসব এলাকার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রও তেলের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।


মঙ্গলবার বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। এ সময় সারাদেশে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট।


আমার বাঙলা/ রাব্বি

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment