পর্বতারোহী মহলে নেমে এল শোকের ছায়া। পাকিস্তানের ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধসে প্রাণ হারালেন ব্রিটিশ-নেপালি কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমসদাই’ পুর্জা। তাঁর সংস্থা এলিট এক্সপেড ভারতীয় সময়ে শনিবার রাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনায় তাঁর অভিযাত্রী দলের বাকি সদস্যদেরও মৃত্যু হয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ৮,০৪৭ মিটার উঁচু ব্রড পিকে অভিযানের পথে ক্যাম্প-২ এবং ক্যাম্প-৩-এর মাঝামাঝি প্রায় ৬,৫৭৯ মিটার উচ্চতায় আচমকাই নেমে আসে ভয়ঙ্কর তুষারধস। বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই নির্মল পুর্জ-সহ ১১ জনের সঙ্গে বেস ক্যাম্পের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেন, কেউই বেঁচে নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকার্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই পর্বতারোহণের ইতিহাসে নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেলেছিলেন নির্মল। ২০১৯ সালে অক্সিজেনের সাহায্যে বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। পরে কে-টু শৃঙ্গের প্রথম শীতকালীন সফল অভিযানের অন্যতম সদস্য হিসেবেও ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার কাহিনি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর গোর্খা ব্রিগেড এবং পরে রয়্যাল নেভির স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এ কর্মরত ছিলেন নির্মল। সামরিক জীবন ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে পর্বতারোহণে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্তই তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। ২০১৮ সালে পর্বতারোহণে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি এমবিই (Member of the Order of the British Empire) সম্মানেও ভূষিত হন।
নির্মলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী মহল। অভিযাত্রী, ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্বতারোহীরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, শুধু রেকর্ড নয়, অসংখ্য উদ্ধার অভিযানে তাঁর সাহস, নেতৃত্ব এবং মানবিকতার জন্যই নির্মল পুর্জা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
Leave a Comment