---Advertisement---

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মোদির, জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহে বিশেষ নজর কেন্দ্রের

By Suman Debnath

July 31, 2026 11:40 AM

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মোদির, জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহে বিশেষ নজর কেন্দ্রের

---Advertisement---


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি (CCS)-এর সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মূল লক্ষ্য ছিল, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের তেল, গ্যাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh), বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar), অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman), পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) এবং স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আমলারা বৈঠকে যোগ দেন।

সরকারি সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশে যাতে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি, পিএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘ককরোচ’-এর পর নতুন সোশ্যাল মিডিয়া ঝড়! ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর উত্থান, ইনস্টাগ্রামে ৫৬ লক্ষের বেশি অনুসারী

বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখে সার মজুত পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরকারের দাবি, চলতি বছরের রবি এবং আগামী বছরের খরিফ মরসুমের জন্য পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ পিএনজি উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। যে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রক প্রস্তুত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার জর্ডনে ইরানি হামলার জবাবে ইরানের একাধিক স্থানে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবর সামনে এসেছে।

ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন কেশম দ্বীপ (Qeshm Island)-এ একাধিক বিস্ফোরণের পাশাপাশি জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বুশেহর (Bushehr) শহরেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন:  আসামে ভয়াবহ বন্যার বলি আরও ১৪, মৃত বেড়ে ৬১

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই প্রস্তুতিরই অংশ বলে মনে করছে কূটনৈতিক ও জ্বালানি মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment