উত্তর ২৪ পরগনার যাতায়াতে বড় স্বস্তির বার্তা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বরানগর–বারাকপুর মেট্রো করিডর নির্মাণে বড় পদক্ষেপ নিল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১০টি এলিভেটেড মেট্রো স্টেশন এবং একটি এলিভেটেড ভায়াডাক্ট নির্মাণের জন্য ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ₹১,৫৮৭.৩৯ কোটি।
এই টেন্ডার জারির ফলে বহু বছর ধরে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ নতুন গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১০টি নতুন মেট্রো স্টেশন কোথায়?
প্রস্তাবিত বরানগর–বারাকপুর মেট্রো করিডরে যে ১০টি নতুন এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলি হল—
- কৃষ্ণ কলি — কামারহাটি
- আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র — আগরপাড়া
- গান্ধী আশ্রম — সোদপুর
- শরৎ চন্দ্র — পানিহাটি
- সুভাষ নগর — সুখচর
- ঋষি বঙ্কিম — খড়দহ
- ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ — টাটা গেট
- শাহ নওয়াজ খান — টিটাগড়
- অনুকূল ঠাকুর — তালপুকুর
- মঙ্গল পাণ্ডে — বারাকপুর
১২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর
আরভিএনএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বরানগর মেট্রো স্টেশন থেকে মঙ্গল পাণ্ডে (বারাকপুর) পর্যন্ত প্রায় ১২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে এলিভেটেড ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। এই অংশেই গড়ে উঠবে ১০টি নতুন এলিভেটেড স্টেশন।
প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বরানগর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত দ্রুত ও আধুনিক গণপরিবহণের সুবিধা মিলবে, যার ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে সময় অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বহু বছরের অপেক্ষার পর বাস্তবায়নের পথে
বরানগর–বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের ঘোষণা প্রথম হয় ২০১০ সালে, তখনকার রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০১১ সালে কিছু প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও পরে প্রকল্পের অগ্রগতি কার্যত থমকে যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য নির্মাণকাজ এগোয়নি। এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল।
সাড়ে তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য
প্রকল্প-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেন্ডার ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে এগোলে প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই অংশের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রকল্প শেষ হলে কামারহাটি, আগরপাড়া, সোদপুর, পানিহাটি, খড়দহ, টিটাগড় ও বারাকপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষাধিক যাত্রী সরাসরি মেট্রো পরিষেবার সুবিধা পাবেন। তবে প্রকল্পের সময়সীমা ও কাজের অগ্রগতি টেন্ডার প্রক্রিয়া, নির্মাণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

Leave a Comment