রাজ্যের শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রশাসন। নাশকতা, অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় আদালতের একাধিক প্রবেশদ্বারে বসানো হবে অত্যাধুনিক এআই-ভিত্তিক ফেস রেকগনিশন সিস্টেম। বিচারপতি, আইনজীবী, আদালতের কর্মী, সাংবাদিক থেকে মামলাকারী—সকলের প্রবেশ থাকবে ডিজিটাল নজরদারির আওতায়।
বুধবার হাইকোর্টে প্রশাসন, পুলিশ, পিডব্লিউডি এবং তিনটিআইনজীবি সংগঠন বার অ্যাসোসিয়েশন, ইন কর্পোরেট ল সোসাইটি ও বার লাইব্রেরি ক্লাবের প্রতিনিধিদের যৌথ বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কোথায় কোথায় ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি বসানো হবে, তা নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক আইনজীবীদের মধ্যে যদি কোন আততায়ী কোট গ্রাউন্ পড়ে প্রবেশ করে যায় সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে একটা বড়সড়ো প্রশ্ন উঠে আসতে পারে। তাই হাইকোর্টের ১২ টি গেট সহ আরো বেশ কিছু গেট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নতুন ব্যবস্থায় আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের মুখের ছবি ডিজিটাল ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে।
ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তদন্তে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।সকালের ব্যস্ত সময়ে আদালতে প্রবেশের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যাতে কোনও দুষ্কৃতী ঢুকে পড়তে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত প্রবেশদ্বার খোলার বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য দীপাঞ্জন দত্ত জানান, দেশের বিভিন্ন আদালতে নিরাপত্তা ভাঙার ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। সেই নির্দেশ মেনেই ধাপে ধাপে দেশের সব হাইকোর্টে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জেলা আদালতগুলিতেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত আদালতে আসা আইনজীবী, কর্মী ও সাংবাদিকদের জন্য থাকবে স্থায়ী ডিজিটাল ডেটাবেস। মামলাকারীদের জন্য থাকবে পৃথক কাউন্টার। বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আদালতে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
Leave a Comment