নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সিবিআইয়ের চার্জশিট, ১৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ

By Suman Debnath

July 29, 2026 12:20 PM

নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সিবিআইয়ের চার্জশিট, ১৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ


নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে সংস্থাটি। চার্জশিটে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ নষ্ট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রী আদালতের সামনে পেশ করেছে সিবিআই।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র একাধিক ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন (Prevention of Corruption Act) এবং Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024-এর অধীনেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত একটি সুসংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি এবং ৪৩টি বাজেয়াপ্ত সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জন অভিযুক্তই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:  কারা দেশের আসল দুশমন? দশেরায় রাবণ দহনের মঞ্চ থেকে তিন অপশক্তিকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তারি হয়েছিল ১৩ মে ২০২৬। তারপর ধারাবাহিক তদন্তে মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (National Testing Agency – NTA)-র রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানের তিনজন বিষয় বিশেষজ্ঞ। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মধ্যস্থতাকারী বা দালালও এই চক্রে সক্রিয় ছিল।

তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, দুটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিও ওই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, পাচার এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার গোটা চক্রের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত দিকও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে।

এই প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধরেন্দ্র প্রধান (Dharendra Pradhan) পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে একাধিক দাবিতে সমঝোতা হয় এবং অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন:  ফ্রিজই থাকল তৃণমূলের ৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে, প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে আরও কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

সিবিআইয়ের এই চার্জশিট জমা পড়ার পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী এবং গোটা দেশের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment