---Advertisement---

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব পদে চাইছেন ট্রাম্প, জল্পনা তুঙ্গে

By Suman Debnath

July 22, 2026 12:50 PM

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব পদে চাইছেন ট্রাম্প, জল্পনা তুঙ্গে

---Advertisement---


ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনই দাবি করেছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প না কি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে ইনফান্তিনোর নাম সমর্থন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, ফিফা সভাপতির নেতৃত্বে সংস্থাটি কার্যত আমেরিকার প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সেই ঘনিষ্ঠতারই রাজনৈতিক পুরস্কার ইনফান্তিনো পেতে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, ইনফান্তিনোর বিশ্বের সম্মানিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের মানুষকে এক মঞ্চে নিয়ে আসার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। বর্তমানে এই দায়িত্বে রয়েছেন পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস। যদিও সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ইনফান্তিনো নিজে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প রাষ্ট্রসঙ্ঘের শীর্ষপদে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দেখতে চান বলেই ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘ইরানের হিট লিস্টে আমি এক নম্বরে’, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব হতে হলে প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন। সেখানে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে এই পদের জন্য সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে নিউ ইয়র্ক পোস্টের দাবি, ট্রাম্পের দৃষ্টিতে এই সাতজনই তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও সোশালিস্ট পার্টির নেত্রী মিশেল বাশালে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বর্তমান মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি।

সম্প্রতি বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ লেখা ব্যানারকে ঘিরে ইংল্যান্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। যদি কোনও দক্ষিণ আমেরিকার প্রার্থী এবার নির্বাচিত না হন, তা হলে গত ৪৫ বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আর কোনও দক্ষিণ আমেরিকান মহাসচিব পাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, শুধু ট্রাম্পই নন, একাধিক মহল থেকেও ইনফান্তিনোর নাম প্রস্তাব করা হতে পারে।

আরও পড়ুন:  ইরানে মার্কিন হামলায় সেতু-রেলস্টেশন-বিমানবন্দর ধ্বংস, নিহত ৭, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের

এদিকে, সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপকে ঘিরে একাধিক বিতর্কের কারণে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে ইনফান্তিনো সমালোচনার মুখে রয়েছেন। সেই বিতর্কের মধ্যেই প্রচলিত রীতি ভেঙে স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ফিফার তরফে ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ও দেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই এবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের শীর্ষপদের দৌড়ে ইনফান্তিনোর নাম উঠে এসেছে বলে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিশ্বশান্তি বজায় রাখা এবং মানবাধিকার রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের প্রশ্ন, ইরানের ফুটবলারদের দড়ি দিয়ে ঘোরানোর সময় এবং প্রাক্তন ফুটবলার বা রেফারিকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার সময়, ফিফার সভাপতির নীরব ছিলেন। তাই অনেকের প্রশ্ন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আদৌ রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব হওয়ার জন্য যোগ্য!

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment