ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গা, লুটপাট, আগুন: হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

By Suman Debnath

October 18, 2026 7:35 PM

ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গা, লুটপাট, আগুন: হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

ফ্রান্সে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবার অবনতিশীল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্সের সরকার একে ‘সহিংসতার বৃদ্ধি’ বলে বর্ণনা করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, শনিবার পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল করলেও ছোট ছোট দলে থাকা কিছু সহিংস মানুষ সরকারি ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান ও সুপারমার্কেটে লুটপাট চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।

মধ্যপশ্চিম ফ্রান্সের শহর লিমোজের সিটি হলে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণপূর্বে ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় শহর মার্সেইতে কালো পোশাক পরা বিক্ষোভকারীরা জোরপূর্বক সিটি হলে প্রবেশ করে বিভিন্ন গ্রাফিতি দিয়ে ভবনটি বিকৃত করে দেয়। দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় আরেক শহর লিওঁতে বিক্ষোভকারীরা নগরীর পর্যটন দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করে।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো) : ব্রিটেনের দুর্গাপুজো, শিকড়ে ফেরার তাগিদ

সন্ধ্যায় রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। জনতার বিরুদ্ধে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।

লিমোজের সিটি হলের আগুন ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে ভবনটির ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ঁ ল্যকরনু জানিয়েছেন, সহিংসতায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা জখম হয়েছেন। এসব সহিংসতার মাধ্যমে সরকারকে ‘আতঙ্কিত’ করা যাবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এসব সহিংসতার জন্য তিনি ‘অতি-বাম’ ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন।

এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যারা এই সহিংসতাকে স্পষ্ট ‘ওয়ার্ম-আপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলছি: আমরা কোনো হুমকি বা ভীতিকে প্রশ্রয় দেব না। কেউ সহিংসতার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না।

আরও পড়ুন:  ভারতীয় পাইলট স্মিতকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন দুবাইয়ের যুবরাজ  

সন্ধ্যায় দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত প্যারিসের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পর ল্যকরনু জানান, প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোঁরা নুনেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সের জাতীয় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন রয়টার্সকে জানিয়েছে, তাদের হিসাবে দেশজুড়ে আট লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে যারা দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িয়েছে তাদের তাদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।

এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ওই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব যারা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করতে চায় আর যারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন তাদের বাধা দিতে চায়।”

শনিবার ফ্রান্সের পাশাপাশি বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে অসন্তুষ্ট লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করেছে, তবে তা অপেক্ষাকৃত ছোট ছিল। আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকারীরা আবারও সরকারের দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার নিম্ন মানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment