ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী লুলা দ্য সিলভা (President Luiz Inacio Lula da Silva)। তাঁর কাছে হারলেন প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বীর পুত্র ফ্লাভিও বলসোনারোকে। ৯৯ শতাংশ গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায় বামপন্থী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। আর দক্ষিণপন্থী বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও ফল মেনে নিতে নারাজ দক্ষিণপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। রবিবারের দ্বিতীয় দফার ভোট বাতিলের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বলসোনারো। তবে তাঁর অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
বলসোনারো প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত দু’ঘণ্টা ভোটগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ভোট চলাকালীনই বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাঁর আইনি দল নির্বাচনের ফল বাতিলের আবেদন জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা (President Luiz Inacio Lula da Silva) চতুর্থবারের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। ১৯৮৯ সালে দুই দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হয়। তারপর এই প্রথম কোনও প্রার্থী প্রথম দফার ভোটে দ্বিতীয় স্থানে থেকেও পরবর্তী দফায় জয় পেলেন।
Presidente Lula celebra vitória na Avenida Paulista
— Lula (@LulaOficial) October 26, 2026
ভোটের সময় বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক
ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বলসোনারো। ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডেরাল কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ভোটগ্রহণের সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে সমস্যার অভিযোগ সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ করা হয়।
কয়েকটি পুরসভায় গণপরিবহণ পরিষেবা কমে যাওয়ায় ভোটারদের অসুবিধা হচ্ছিল বলে খবর আসে। ব্রাজিলের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘আগেন্সিয়া ব্রাজিল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল দুই পদপ্রার্থীর শিবিরই।
তারপরেও বলসোনারোর অভিযোগ করেছে, ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সমান আচরণ করা হয়নি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বলসোনারো। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর দলের প্রতিনিধিদের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির সমর্থনে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, শক্তি বাড়িয়ে অতি তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস, বাংলায় কোথায় বৃষ্টি?
ভোটে জিতে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের কথা লুলার
ভোটে জিতে লুলা ব্রাজিলের স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের নিয়ে কথা বলেন। বিদেশি শক্তির অধীনস্থ হয়ে ব্রাজিল চলবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।এক্সে ৮০ বছর বয়সি লুলা (President Luiz Inacio Lula da Silva) লিখেছেন, ‘ব্রাজিল কারও পিছনের উঠোন নয়’। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারে সেই হস্তক্ষেপের মোকাবিলা করে জয় পেয়েছে তাঁর শিবির।
লুলা (President Luiz Inacio Lula da Silva) আরও বলেন, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের আরও বেশি করে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও প্রত্যাবর্তন লুলার
চলতি মাসের গোড়ায় প্রথম দফার ভোটে বলসোনারোর তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন লুলা। তবে দ্বিতায় দফায় জয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি। ব্যয় বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলি এবার নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
এক সময়ের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও কারখানার কর্মী লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২৩ সালে ফের ক্ষমতায় ফেরেন। এবারের ভোটে জয়ী হওয়ায় ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।
দেখুন:
Leave a Comment