ইরানের উপর চাপ আরও বাড়াতে এবার স্থলপথেও নজরদারি জোরদার করছে আমেরিকা। অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্য ইরানে পৌঁছনো আটকাতে ‘টাস্ক ফোর্স আয়রন গেট’ নামে বিশেষ দল গঠনের কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন সেনা। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডবা সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নির্দেশে ফ্লোরিডার টাম্পায় এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ২০ জন সামরিক ও অসামরিক কর্মীকে নিয়ে গঠিত দলটি ইরানের স্থল সীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগরপথে নজরদারি চালাবে।
মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে এই টাস্কফোর্স। উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় এমন প্রযুক্তি, নিষিদ্ধ পণ্য এবং বেআইনি অর্থের লেনদেনের পথ চিহ্নিত করে তা বন্ধ করাই তাদের লক্ষ্য। কুপারের দাবি, এই উদ্যোগ ইরানের সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো, অস্ত্র কারখানা ফের চালু করা এবং সামরিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষমতা আরও কমিয়ে দেবে।
তাঁর কথায়, সমুদ্রে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের সাফল্যকে আরও জোরদার করবে ‘আয়রন গেট’। এতদিন ইরানের বন্দর ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য আটকে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু স্থলপথে একাধিক দেশের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে। তুরস্ক, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে তেহরানের।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারানোর মুখে নেতানিয়াহু, আইজেনকটকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ
উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর দিয়েও রাশিয়া-সহ অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চলে। ফলে সমুদ্রপথে বাধা তৈরি হলেও এই বিকল্প পথগুলি দিয়ে অস্ত্রের উপাদান ও নিষিদ্ধ পণ্য ইরানে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা আমেরিকার। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ২৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ইরানি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আটকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরের উপর নজরদারি বাড়িয়ে ইরানের বিকল্প বাণিজ্যপথও বন্ধ করতে চাইছে ওয়াশিংটন। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a Comment