উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের একটি হোটেল থেকে মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। পরিবারের অভিযোগে ঘনিষ্ঠ পরিচিত এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram)-এর একটি হোটেল থেকে ৩৮ বছরের এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত তথা লিভ-ইন সঙ্গী বলে দাবি করা এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম রিনা রাম (৩৮)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার পাটুলি এলাকার নারকেলবাগানের বাসিন্দা। গত ১৭ জুলাই মধ্যমগ্রামের ব্ল্যাক ডায়মন্ড হোটেল-এর ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন তিনি। পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘরের দরজা না খোলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয় এবং তারা সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমগ্রাম থানায় খবর দেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তখন সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা না হওয়ায় রিনা আলাদা থাকতেন। যদিও তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। তাঁর একটি মেয়েও রয়েছে, যাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পাটুলি এলাকার বাসিন্দা গৌরব শেঠ ওরফে রাহুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুলিশের দাবি, অতীতেও তাঁরা একাধিকবার ওই হোটেলে দেখা করতে এসেছিলেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হোটেলের নথি ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে রিনা ও গৌরবের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল। তাঁদের সন্দেহ, ওই ঘটনার সঙ্গে রিনার মৃত্যুর কোনও যোগ থাকতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গৌরবকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা, প্ররোচনা নাকি অন্য কোনও অপরাধ—সব সম্ভাবনাই খোলা রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ তদন্তকারী আধিকারিকরা।
Leave a Comment