আসল ও নকল তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কোন গোষ্ঠী আসল তৃণমূলের দাবিদার তার নিষ্পত্তিতে শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল ঋতব্রত তৃণমূল। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচন কমিশনের তলব পাওয়ার পর দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট-এ পৌঁছয় ঋতব্রতদের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, তাঁরা কমিশনের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কমিশনের কর্তারা যা জানতে চেয়েছেন, সেই সবকিছু নথি-সহ তাঁরা জানিয়েছেন বলেও জানান ঋতব্রত। শুধু তাই নয়, কমিশন আরও নথি চেয়েছে। সেগুলি শনিবার বিকেলের মধ্যে জমা করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এরপরেই ঋতব্রত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, কারুর বাপের সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিগত মালিকানা নেই সেই পার্টির। এই পার্টি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পার্টি। এক জনের কথায় দল চলতে পারে না। কিন্তু এতদিন ধরে তাই হয়ে এসেছে। তৃণমূল কোনও পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়। আমি আইনস্টাইনে বিশ্বাসী। ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়তে বিশ্বাসী নই।’
ঋতব্রতের কথায়, ‘আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হননি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাজ্যে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখব। ২০১১-২০২৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পুত্র, কন্যা ও জামাতারা রাজ্য সরকারের হয়ে কত টাকার মামলা লড়েছেন এবং কত ফি মুকুব নিয়েছেন, তা জানতে চাইব।’
আরও পড়ুন: অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক, দাবি সিআইডির, মিলবে মাথার খোঁজ?
ঋতব্রত বলেন, ‘সামনেই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ১৬ তারিখ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই আমরা অনুরোধ করেছি, কমিশন যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। বিকল্প প্রতীকের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।’ কিন্তু ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে ঠিক কতজন সাংসদের সমর্থন রয়েছে, সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত শুধু বলেছেন, ‘দেখতে থাকুন কী হয়। সঠিক সময়ে জানাব।’
Leave a Comment