---Advertisement---

আকাশেই আরেকটা ক্রেমলিন, পুতিনের সঙ্গে দিল্লি এল ২৭০০০০ কেজির রহস্যময় ডুমসডে প্লেন

By kolamkotha.com

September 12, 2026 5:40 PM

আকাশেই আরেকটা ক্রেমলিন, পুতিনের সঙ্গে দিল্লি এল ২৭০০০০ কেজির রহস্যময় ডুমসডে প্লেন

---Advertisement---


ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকও নির্ধারিত রয়েছে তাঁর সফরসূচিতে। কিন্তু পুতিনের এই সফরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অন্য একটি বিষয়। সেটি হল তাঁর বিমান। যে বিমানে চড়ে পুতিন দিল্লি এসেছেন, তার ডাকনাম উড়ন্ত ক্রেমলিন (Flying Kremlin)। কখনও কখনও একে বলা হয় প্রলয়ের বিমান বা ডুমসডে প্লেন (Doomsday Plane)।

কেমন দেখতে

পুতিনের এই বিমানটি আসলে একটি ইলিউশিন (Ilyushin Il-96-300PU)। রাশিয়ার কাছে এমন দু’টি বিশেষভাবে তৈরি বিমান রয়েছে, দু’টিই দেখতে একরকম। দৈর্ঘ্যে বিমানটি প্রায় ৫৫ মিটার, আর ডানার বিস্তার প্রায় ৬০ মিটার। বিমানটি চালায় রাশিয়ার বিশেষ উড়ান স্কোয়াড্রন (Special Flight Squadron), যাদের কাজই হল প্রেসিডেন্টের যাবতীয় যাতায়াতের দায়িত্ব সামলানো।

একবার জ্বালানি ভরলে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এই বিমান। ফলে দীর্ঘ সফরেও বারবার জ্বালানি ভরার ঝক্কি পোহাতে হয় না। বিমানের ইঞ্জিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আভিয়াদভিগাতেল (Aviadvigatel PS-90A) টার্বোফ্যান।

ভিতরে কী

সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে এর কোনও তুলনাই চলে না। ভিতরে রয়েছে প্রেসিডেন্টের জন্য একেবারে আলাদা স্যুট, শোওয়ার ঘর, স্নানঘর, রান্নাঘর, খাওয়ার জায়গা, এমনকি বৈঠকের জন্য আলাদা কনফারেন্স রুমও। অর্থাৎ প্রয়োজনে গোটা প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানো যায় আকাশে বসেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল এই বিমানের যোগাযোগব্যবস্থা। এতে রয়েছে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা (encrypted communication system), উপগ্রহ সংযোগ এবং সুরক্ষিত রেডিও ও তথ্যচ্যানেল। ফলে আকাশে থাকা অবস্থাতেও রুশ নেতৃত্ব দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এমনকি রয়েছে রাডার-জ্যামিং প্রযুক্তি এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাও।

কেন নামে ডুমসডে

এই নামকরণের পিছনে রয়েছে একটি বিশেষ কারণ। এই বিমান যে কোনও পরমাণু বিস্ফোরণ সহ্য করতে পারে বা সরাসরি আঘাত থেকে বাঁচতে পারে, বিষয়টা এমন নয়। বরং কোনও পরমাণু হামলা বা বড়সড় বিপর্যয়ের পরেও যাতে দেশের নেতৃত্ব ও নির্দেশনা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে, তেমন পরিকল্পনা করেই তৈরি হয়েছে এই বিমান। মাটিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলি যদি কোনও কারণে অকেজো হয়ে পড়ে, তাহলেও আকাশ থেকেই দেশ চালানো সম্ভব হয় এই বিমানের মাধ্যমে।

তবে একটা কথা মনে রাখা জরুরি। এই ইলিউশিন বিমানটি রাশিয়ার আসল পরমাণু-নিয়ন্ত্রণ বিমান নয়। পরমাণু হামলার সময় ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার আলাদা একটি বিমানও রয়েছে, যার নাম ইল-৮০ (Il-80)। সেটিকেও মাঝেমধ্যে প্রলয়ের বিমান বলা হয়ে থাকে।

Ilyushin Il-80 (eurasiantimes.com)
Ilyushin Il-80 (eurasiantimes.com)

জোড়া বিমানের রহস্য

নিরাপত্তার প্রশ্নে রাশিয়া এক অভিনব কৌশল নেয়। পুতিনের সফরের সময় হুবহু একই দেখতে দু’টি বিমান একসঙ্গে ওড়ে। কোন বিমানে আসলে পুতিন রয়েছেন, তা বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় থাকে না। এর ফলে কোনও সম্ভাব্য হুমকি তৈরি হলেও লক্ষ্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই কৌশল পুতিন আগেও বিভিন্ন বিদেশ সফরে ব্যবহার করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

ব্রিকসে পুতিনের বার্তা

বিমান নিয়ে চর্চার মধ্যেই দিল্লিতে ব্রিকস মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছেন পুতিন। বাণিজ্য, পরিকাঠামো, পরিবহণ এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য নতুন একটি মঞ্চ তৈরির কথা বলেছেন তিনি। ব্রিকসের অর্থনৈতিক সহযোগিতা কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং সদস্য দেশগুলির নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষিত করাই এর লক্ষ্য, এমনটাই দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (NDB)-ভিত্তিক এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে বেসরকারি লগ্নি টেনে আনার কথাও বলেছেন তিনি।



---Advertisement---

No comments to show.

Leave a Comment