রাজ্য নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েও উত্তর পাচ্ছে না পুরদপ্তরের! পুরসভা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা

By Suman Debnath

November 8, 2026 9:55 AM

রাজ্য নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েও উত্তর পাচ্ছে না পুরদপ্তরের! পুরসভা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা


কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের সংশোধিত ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সুতরাং ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার আইনি জট না কাটলে নতুন সীমানার ভিত্তিতে পুরসভা নির্বাচনের পথে এগোনো কার্যত অসম্ভব। এই আবহে একের পর এক চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। কিন্তু সেখান থেকে কোনও উত্তর এখনও পর্যন্ত মেলেনি বলেই সূত্রের খবর।

এদিকে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের থেকে কোনও উত্তর না পেয়ে পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি করতে পারছেন না রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। সুতরাং একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি কোন পথে এগোবে, কত সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং ভোটকর্মী পাওয়া যাবে সেসব নিয়েও স্পষ্ট ধারণা নেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের। কারণ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির সদুত্তর মেলেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ওয়ার্ড প্রতি কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হবে। তা নিয়েও ধোঁয়াশায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়টি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীন বলে মনে করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।

আরও পড়ুন:  ‘বাংলায় আর কাটমানি লাগে না’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মহিলাদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

অন্যদিকে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই, রাজ্য নিয়োগ করেছে প্রশাসক। আর সেই প্রশাসকের সুপারিশেই কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা বদলের বিষয়টি সামনে এসেছে। কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত কর্পোরেশনকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসকের সুপারিশে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া নিয়েই রাজ্য সরকারকে কার্যত তুলোধনা করেছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, প্রশাসক কখনও নির্বাচিত কর্পোরেশনের বিকল্প হতে পারেন না। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন আর কর্পোরেশনের আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ এক বিষয় নয়। সুতরাং প্রশাসকের সুপারিশকে কর্পোরেশনের সুপারিশ বলে চালানো যায় না। তার সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ আছেন বহু নাগরিক। সেটার কাজও করতে হচ্ছে। সেখানে চিঠির জবাব না পেলে পুরসভা নির্বাচন নিয়ে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না। এখন যা পরিস্থিতি তাতে এই বছর পুরসভার নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:  মুকুন্দপুরের পর গল্ফগ্রিন, চাকরির টোপ দিয়ে তরুণীকে দিনভর ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

তাছাড়া রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পুরসভা নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে নানা বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে নানা তথ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনও তার জবাব মেলেনি। সুতরাং নির্বাচনী প্রস্তুতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা। সুতরাং নির্বাচন কবে এবং কীভাবে করা সম্ভব সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment