---Advertisement---

সৎ বাবার বিরুদ্ধে মেলেনি ধর্ষণের প্রমাণ, খারিজ নিম্ন আদালতের নির্দেশ

By Suman Debnath

July 13, 2026 7:00 PM

সৎ বাবার বিরুদ্ধে মেলেনি ধর্ষণের প্রমাণ, খারিজ নিম্ন আদালতের নির্দেশ

---Advertisement---





মামলার বয়ান অনুযায়ী সৎ বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাত বছর কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেলেন এক ব্যক্তি। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানান, নির্যাতিতা কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন, এটি প্রমাণিত হলেও, ওই গর্ভধারণের জন্য অভিযুক্তই দায়ী ছিলেন, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা যায়নি। সেই কারণেই নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ খারিজ করে অভিযুক্তকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১০ অক্টোবর। ২০১৮ সালে । আচমকা তীব্র পেটব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এক কিশোরী। তাকে দ্রুত আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা জানান, নাবালিকা কন্যা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে এটি ছিল একটোপিক প্রেগন্যান্সি হওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচার করে গর্ভপাত করাতে হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কয়েক দিন আইসিইউতেও ভর্তি ছিল সে।

আরও পড়ুন:  বিজেপি নেত্রী নির্ভয়া দিদির উদ্যোগে ৪৪ নাবালিকা উদ্ধার, সাহসী পদক্ষেপে রুখলেন নারী-পাচার

এরপর কিশোরী অভিযোগ করে, দীর্ঘ তিন থেকে চার মাস ধরে সৎ বাবা জোরপূর্বক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে সে। মেয়ের কাছ থেকে সব শুনে মা টালা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পকসো আইনের ৪ ও ৬ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

শিয়ালদহ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দিতে এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও কিশোরী অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। চিকিৎসকেরাও জানান, যৌন সম্পর্ক ও গর্ভধারণের প্রমাণ মিলেছে। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে।

পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানায় অভিযুক্ত সৎ বাবা। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে, কিশোরীর গর্ভধারণের ঘটনা প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তই তার জন্য দায়ী এমন নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণ সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে তুলে ধরতে পারে পারেনি। সেই কারণেই সন্দেহের ওপর আমাদের ভিত্তি করে নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে সাত বছর পর অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:  একসঙ্গে ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ, আরও চাপে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment