---Advertisement---

ইন্দো-প্যাসিফিকে চিনকে বার্তা, ৩৫ হাজার কোটির চুক্তিতে নতুন সমীকরণ ভারত-নিউজিল্যান্ডের

By Suman Debnath

July 11, 2026 10:35 PM

ইন্দো-প্যাসিফিকে চিনকে বার্তা, ৩৫ হাজার কোটির চুক্তিতে নতুন সমীকরণ ভারত-নিউজিল্যান্ডের

---Advertisement---


 দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রতীক্ষার শেষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। শনিবার অকল্যান্ডের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মাওরি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘পাওহিরি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন স্বয়ং তাঁকে স্বাগত জানান।

নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক— দুই ক্ষেত্রেই বড় সাফল্যের বার্তা দিয়েছে ভারত। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি, পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ সফরটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য এনে দিয়েছে। 

এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত-নিউজিল্যান্ডের নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ — এই সব ক্ষেত্রেই যৌথ বিনিয়োগের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। বস্ত্র, চামড়া ও গয়না শিল্পের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলোতে শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচলের উপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের নেতারা।

আরও পড়ুন:  ‘সন্ত্রাসের ঘাঁটিতে ভারতের আঘাতের প্রতিধ্বনি শুনেছে গোটা বিশ্ব’, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’


সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করতে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য ও সামুদ্রিক মানচিত্র বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দুই দেশের নৌবাহিনী একে অপরকে রসদ ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারবে। কোনও দেশের একতরফা চাপ সৃষ্টি করে আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার বিরুদ্ধেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে,এই অবস্থানের মূল লক্ষ্য চিনকেই বার্তা দেওয়া। 

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মুক্ত, উন্মুক্ত এবং নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ সংক্রান্ত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশ সহমত প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প, সুনামি, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ভয়াবহ বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধস কক্সবাজারে, রোহিঙ্গা শিবিরে মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু ৯ জনের

 আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি বিনিময়ের পাশাপাশি কিউয়ি ফল উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে দুটি কিউয়ি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া পর্যটন, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও স্পোর্টস মেডিসিনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাতের লোথালে নির্মীয়মাণ জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নে নিউজিল্যান্ড সহযোগিতা করবে।ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে বৈঠকে মোদী বলেন, আজকের ভারত শুধু বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল অর্থনীতিই নয়, বিনিয়োগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গন্তব্যও। তাঁর কথায়, আগামী দিনের উন্নয়নে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

বৈঠক থেকে মোট ১৮টি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আগামী ৪ বছরের সম্পর্ক উন্নয়নের ‘রোডম্যাপ’ অন্যতম। মোদি ও লাক্সনের এই রসায়ন কেবল বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণের পূর্বাভাস । সার্বভৌমত্ব ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার অঙ্গীকার করে দুই দেশই বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব রাজনীতিতে তারা এখন একে অপরের নির্ভরযোগ্য মিত্র।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment