ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে দলে ভাঙনের চিত্র স্পষ্ট। বর্তমানে তৃণমূল ভেঙে দাঁড়িয়েছে দু’টি দলে। একদল কালীঘাট অর্থাৎ মমতাপন্থী ও অন্য দলটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অর্থাৎ আসল তৃণমূল। যদিও প্রতিদিন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল থেকে একাধিক নেতা, বিধায়ক দলত্যাগ করে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসে এই ধারাবাহিক ভাঙনের আবহে এবার বিজেপিকে সতর্কবার্তা দিলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর আশঙ্কা, তৃণমূলের দুর্বলতার ফলে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যস্থানের সুযোগ যেন সিপিএম নিতে না পারে।
শনিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তথাগত রায় লেখেন, ‘তৃণমূলের ইমপ্লোশনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে,সেখানে যেন সিপিএম ঢুকে না পড়ে সেদিকে বিজেপিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।একইসঙ্গে তিনি কমিউনিস্টদের কটাক্ষ করে লেখেন, ‘কমিউনিস্ট মানেই ভণ্ড। এই সরল কথা এখনও আমাদের অর্থাৎ বাঙালি হিন্দুদের অনেকের মগজে ঢুকল না।’
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলে একাধিক বিধায়ক, সাংসদ এবং নেতার দলত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। লোকসভার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভার ৩ জন দলত্যাগ ও সাংসদ পদ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূলে প্রতিদিনই নতুন মুখ যোগ দিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ কমছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নেমে নিজেদের সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে সিপিএম। হকার উচ্ছেদ, বুলডোজার অভিযান-সহ নানা জনমুখী আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে বামেরা। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলও রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। সেখানে তৃণমূল পিছিয়ে পড়ে চতুর্থ স্থানে চলে গেলেও সিপিএম দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যা সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
তথাগত রায় তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘু ভোটের জন্য কমিউনিস্টরা অতীতে নানা ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। তিনি সিপিএমের বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব ও অতীতের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
Leave a Comment