কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর সভামঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chattopadhyay)। দলের জন্ম থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু টেনে এনে তিনি বলেন, “মমতার রক্তে তৈরি হয়েছে দল, বালিশচাটাদের দিয়ে নয়।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, নানা বাধা, হামলা এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা সত্ত্বেও মমতার জনসমর্থন আটকানো যায়নি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বুকের মধ্যে মমতা আছে। এই দল মমতার রক্তে তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল এক সময় বলে দিয়েছিল, মমতাকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু তিনি ফিরে এসেছেন মানুষের জন্য লড়াই করতে।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
মমতার জনপ্রিয়তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শোভনদেব বলেন, “সবাই চেষ্টা করেছিলেন মমতার ডাক আটকে দেওয়ার। কিন্তু তাঁর ডাক বিদ্যুতের গতির মতো, সেটা কেউ থামাতে পারে না।” তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও মানুষের সাড়া প্রমাণ করছে যে মমতার আবেদন এখনও অটুট রয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসার পথে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসবের পরেও কর্মীদের অংশগ্রহণ থামানো যায়নি বলেই দাবি করেন তিনি।
এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium) সংলগ্ন সভাস্থলে জনসমাগম ক্রমশ বাড়তে থাকে। দুপুর পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের নিরিখে মমতা শিবিরই এগিয়ে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ। সভাস্থলে তৃণমূলের পতাকা, পোস্টার এবং মমতার ছবি হাতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন কর্মীরা।
দুপুরের কিছু আগে সভাস্থলে পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর আগমনের পর সভাস্থলে উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে।
অন্যদিকে মেয়ো রোডে (Mayo Road) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর শিবিরের সভাস্থলেও কিছু তৃণমূল কর্মীকে দেখা যায়। তবে তাঁদের অনেকেই জানান, তাঁরা কৌতূহলবশত সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু মূল গন্তব্য ছিল মমতার সভা। তাঁদের কথায়, “প্রতীক একটাই, নেত্রীও একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
সভায় যোগ দিতে আসা একাধিক কর্মী-সমর্থক সরাসরি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধুই মমতার সভা। তাঁদের দাবি, অন্য শিবিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক বিভাজনের আবহে মমতা শিবির নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Leave a Comment