সংখ্যালঘুদের কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু

By Suman Debnath

September 15, 2026 3:05 PM

সংখ্যালঘুদের কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু


উপনির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ‘শেষ সুযোগ’-এর কথা বলে সরাসরি ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে ‘পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করলেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চাইলে সংখ্যালঘুদের এই পরীক্ষায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

নন্দীগ্রামে এক সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের জন্য বললাম, এটাই আপনাদের শেষ সুযোগ। সরকার-মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যদি থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান, আপনাদের পরীক্ষা ৬ অক্টোবর। পরীক্ষায় পাশ করবেন না ফেল করবেন, সেটা আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। বাকি আমরা তো জিতছি, জিতব।’’

একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের দাবিও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:  সিপিএম নেত্রী অবৈধ পথে পিএইচডি’তে ভর্তি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে অভিযোগ এবিভিপি’র

নন্দীগ্রাম-২ বরাবরই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। রেজিনগরেও সংখ্যালঘু ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্পূরক তালিকা অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম থেকে বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২,৭০০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে যেতে পারে। ফলে বিজেপির জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রায় ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের উপর।

রেজিনগরের ছবিটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮,৮৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর।

নন্দীগ্রামের সভা থেকে সেই রেজিনগরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘ভোট করতে আমরা জানি, ভোট করাতেও আমরা জানি। বিজেপি এমন মার্জিনে জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবে না। সংখ্যালঘুরা ঠিক করুন কার সঙ্গে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার জন্য এটা আপনাদের কাছে শেষ সুযোগ।’’

আরও পড়ুন:  রাত পোহালেই রাজপথে বিজেপি, মঙ্গলে শঙ্ঘ পরিবারের সকল সংগঠন

৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যায়, তার উপর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফলে কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক দলগুলির।

 

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment