সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বর্তমানে লোকসভায় দলের নেতা। বৈঠকটি সর্বদল বৈঠকের ঠিক আগের দিন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সর্বদল বৈঠকের আগে তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ
সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনায় উন্নয়নমূলক সহযোগিতার বার্তা উঠে এসেছে বলেই জানা গিয়েছে।
তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এনসিপিআইয়ের স্বীকৃতি নিয়েও জল্পনা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, লোকসভায় এনসিপিআই-কে পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসে থাকতে পারে।
বর্তমানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও এনসিপিআই-কে আলাদা সংসদীয় দলের স্বীকৃতি দেননি। যদিও আসন্ন বাদল অধিবেশনে এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।
সর্বদল বৈঠকে ডাক এনসিপিআইকে
রবিবারের সর্বদল বৈঠকের জন্য এনসিপিআইকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তাঁদের নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের উল্লেখও রয়েছে।
বাদল অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি
শনিবার সন্ধ্যায় সংসদীয় দপ্তরের তরফে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের আসন বিন্যাস-সংক্রান্ত একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে কোন দলের কতজন সাংসদ অধিবেশনে অংশ নেবেন, তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সর্বদল বৈঠকের আগে মোদি–সুদীপ সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে বৈঠকের প্রকৃত তাৎপর্য এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই।
Leave a Comment