আজ ভূতচতুর্দশী। অমাবস্যার অন্ধকার কাটিয়ে জ্বল জ্বল করবে চৌদ্দ প্রদীপ। স্মরণ করা হবে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের। খাওয়া হয় চৌদ্দ শাক। ভূত চতুর্দশীর এই ঐতিহ্য পেরিয়েই হবে আলোর উৎসব। ধূপ-দ্বীপ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে উঠবে মন্দির থেকে পূজামণ্ডপ। কার্তিক অমাবস্যার রাতে পূজিতা হবেন অশুভবিনাশিনী অভয়দায়িনী মা শ্যামা। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠার কামনায় পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। তারপর কার্তিক অমাবস্যায় উদযাপিত হবে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি।
চৌদ্দ প্রদীপে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা
কালীপুজোর আগের দিন, কার্তিক মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি ভূত চতুর্দশী নামে পরিচিত। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চৌদ্দ পুরুষের স্মরণে এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় চৌদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হয়। বাড়ির প্রবেশদ্বার, উঠোন, তুলসীতলা থেকে শুরু করে ঘরের বিভিন্ন কোণে প্রদীপের আলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই আলো প্রয়াত পূর্বপুরুষদের পথ দেখায়।
ভূত চতুর্দশীর আর এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হল চৌদ্দ শাক খাওয়া। অঞ্চলভেদে শাকের তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি বাঙালি পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে নানা ধরনের শাক খাওয়ার মধ্যে রয়েছে লোকজ স্বাস্থ্যচর্চার ঐতিহ্য, তেমনই রয়েছে পারিবারিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা।
আরও পড়ুন: Shyamakatha: মশালের আলোয় নৃত্য করেন বামাকালী, আর তাতে মজে সবাই
মা শ্যামার আরাধনায় অশুভ শক্তির বিনাশেরর প্রার্থনা
কার্তিক অমাবস্যায় পূজিতা হন দেবী কালী, যিনি শ্যামা নামেও পরিচিত। শাক্ত দর্শনে তিনি আদ্যশক্তি, মহামায়া এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিশক্তির প্রতীক। পুরাণের বর্ণনায় অসুরবিনাশিনী দেবীর ভয়ংকরী রূপ অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা বহন করে।
দেবীর হাতে খড়্গ অন্যায়, অজ্ঞানতা ও অহংকারের বিনাশের প্রতীক। আবার তাঁর বরাভয় মুদ্রা ভক্তদের মনে জাগায় সাহস ও নির্ভরতার অনুভূতি। আপাতদৃষ্টিতে ভয়ংকরী হলেও ভক্তের কাছে মা শ্যামা স্নেহময়ী, করুণাময়ী ও অভয়দায়িনী।
দীপাবলির আলোয় অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা
শ্যামা পূজার পাশাপাশি পালিত হয় দীপাবলি বা দীপান্বিতা উৎসব। প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করার মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হয় আলোর উৎসব। তবে দীপাবলির তাৎপর্য কেবল আলোকসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়। ‘তমসো মা জ্যোতর্গময়’-অর্থাৎ অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণের যে চিরন্তন প্রার্থনা, তারই প্রতীক এই উৎসব।
দেখুন:
Leave a Comment