আসানসোলে (Asansol) এক মঞ্চে বিজেপি ও তৃণমূলের (TMC) শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাংসদের দলত্যাগের আবহে তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha)-র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তবে সেই সমস্ত জল্পনায় সোমবার নিজেই ইতি টানলেন অভিনেতা-সাংসদ। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
আসানসোলের চাঁদমারি রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত ৫৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ-এর অনুষ্ঠানে এদিন এক বিরল রাজনৈতিক ছবি দেখা যায়। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার পাশাপাশি কুলটির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দার (Ajay Poddar) এবং আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় (Krishnendu Mukhopadhyay)। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন জল্পনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা সেই গুঞ্জনের সরাসরি জবাব দেন। তিনি বলেন, “ওয়ান্স এ ফ্রেন্ড, অলওয়েজ এ ফ্রেন্ড। আমি একটি খোলা বইয়ের মতো। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।” তাঁর এই মন্তব্যে দলবদল নিয়ে চলা জল্পনায় কার্যত পূর্ণচ্ছেদ পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা দল পরিবর্তন করছেন—এই প্রসঙ্গও টেনে আনেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, ভয়, চাপ বা তদন্তকারী সংস্থার আশঙ্কায় যারা দল ছাড়ছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে, তা ভেবে দেখা উচিত। যদিও তিনি কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, আসানসোল রাইফেল ক্লাবের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। উন্নয়নের প্রশ্নে শাসক ও বিরোধী—সব পক্ষের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
শত্রুঘ্ন সিনহার প্রশংসা করে কৃষ্ণেন্দু বলেন, তাঁকে শুধুমাত্র কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি আসানসোলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসানসোলকে ‘সিটি অব ব্রাদারহুড’ বা সম্প্রীতির শহর হিসেবে তুলে ধরেন শত্রুঘ্ন সিনহা। একই সঙ্গে খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী অজয় পোদ্দার। তিনি জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ী শুটারদের রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনারারি ডিএসপি পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসানসোল রাইফেল ক্লাবে আবাসিক হোস্টেল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও উন্নয়ন ও ক্রীড়ার স্বার্থে এক মঞ্চে একাধিক দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি আসানসোলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সৌহার্দ্যের নতুন বার্তা দিল। তবে সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এল শত্রুঘ্ন সিনহার স্পষ্ট ঘোষণা—তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেখানেই থাকবেন।
Leave a Comment