বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি ইসকনের রথযাত্রায় অংশ নেবেন। নবান্ন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দির থেকে রথের সূচনা করবেন তিনি।। রথযাত্রায় অংশ নিলেও গোটা যাত্রাপথে তিনি থাকবেন না বলে জানা গিয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইসকনের রথযাত্রা অ্যালবার্ট রোডের মন্দির থেকে শুরু হয়ে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বোস রোড, হাজরা রোড, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, এক্সাইড মোড়, জওহরলাল নেহরু রোড এবং আউট্রাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছবে। এই রথযাত্রায় প্রতিবছরই হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। সেই কারণে এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে আরও জোর দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, কলকাতার কর্মসূচি শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুরের উদ্দেশে রওনা হতে পারেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় তিনি নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও পূর্ব মেদনীপুরের একাধিক রথযাত্রার উদ্বোধনে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত বছর কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাত দিয়েই ইসকনের রথযাত্রার সূচনা হবে। রথযাত্রাকে ঘিরে রাজ্য সরকারও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বছর রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। মোট ৩ কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথমেলায় বিশেষ সেবা কেন্দ্র চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কেন্দ্রগুলিতে পানীয় জল, ওআরএস, প্রাথমিক চিকিৎসা, তথ্য ও সহায়তা পরিষেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে। ভিড়ের মধ্যে যাতে দর্শনার্থীরা কোনও সমস্যার মুখে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
ইসকনের রথযাত্রার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত রথ উৎসবকে কেন্দ্র নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। নবান্নের বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠ ও নিরাপদ পরিবেশে রথযাত্রা সম্পন্ন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
Leave a Comment