পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়ার ঘোষণা করলেন।
রাজ্যের রাজনীতিতে ফের বড় ভাঙনের ছবি। কালীঘাট তৃণমূলে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মদন মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে তিনি কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান।
বুধবার দুপুরে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সাদা পাঞ্জাবি ও কালো রোদচশমায় তাঁকে ঋতব্রতের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকেই তিনি প্রকাশ্যে জানান, কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্কের ইতি টানছেন।
মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় সংকটের সময়ও প্রকাশ্যে কালীঘাট শিবিরের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। ফলে তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং শিবিরবদলের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার মদন মিত্রের নাম যুক্ত হওয়ায় কালীঘাট শিবিরের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
যদিও এই যোগদানের পর ভবিষ্যতে মদন মিত্রের সাংগঠনিক দায়িত্ব কী হবে বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে তিনি কী ভূমিকা পালন করবেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মদন মিত্রের এই পদক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী দিনে এর প্রভাব দলীয় সংগঠন ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর।
Leave a Comment