২১ জুলাই কলকাতায় একসঙ্গে তিনটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক রাস্তায় যানজট ও যান নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনার কথা জানাল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বেরোনোর আগে বিকল্প রাস্তা বেছে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি অনুযায়ী, যানজটের আশঙ্কা রয়েছে এসপ্ল্যানেড ক্রসিং, ডোরিনা ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, চৌরঙ্গি রোড, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, লেনিন সরণি, এসএন ব্যানার্জি রোড, মৌলালি ক্রসিং, এপিসি রোড, এজেসি বোস রোড, হাওড়া ব্রিজ, ব্রাবোর্ন রোড, এমজি রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, রবীন্দ্র সরণি, মেয়ো রোড, ডাফরিন রোড, থিয়েটার রোড, কুইনসওয়ে, ক্যাথিড্রাল রোড, হরিশ মুখার্জি রোড এবং এটিএম রোডে।
এবার মাত্র আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি পৃথক ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি হচ্ছে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সভা, মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শিবিরের কর্মসূচি এবং শহিদ মিনার ময়দানে প্রদেশ কংগ্রেসের সমাবেশ—এই তিনটি সভাকে কেন্দ্র করেই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার (Kolkata Police Commissioner) অজয় নন্দের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিউ রোড, ডাফরিন রোড, হসপিটাল রোড, কুইনসওয়ে, চৌরঙ্গি রোড এবং জওহরলাল নেহরু রোডে পণ্যবাহী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে এলপিজি সিলিন্ডার, দুধ, মাছ, মাংস এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার গাড়িকে এই নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছে।
কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচির জন্য ক্যাথিড্রাল রোডের একটি দিক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। যদিও পশ্চিম দিকের উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী লেন স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকবে এবং সেই পথ দিয়ে যান চলাচল চলবে। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের সভার কারণে মেয়ো রোডের একাংশে যান চলাচল বন্ধ রেখে গাড়িগুলিকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, শহিদ মিনারের কংগ্রেস সভার জন্য আলাদা করে বড় ধরনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন না হলেও, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বাড়লে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে রেড রোড, মেয়ো রোড, ডাফরিন রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি ধীর হতে পারে। একই সঙ্গে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার কারণে ক্যাথিড্রাল রোড ও কুইনসওয়ের সংযোগস্থলেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি সভাস্থল মিলিয়ে প্রায় এক হাজার পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, র্যাফ, ড্রোন নজরদারি এবং কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ও সাউথ ডিভিশনের একাধিক পদস্থ আধিকারিক। শহরের পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনে মুহূর্তের মধ্যে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Comment