---Advertisement---

‘ভাঙা বাড়িতে বিদ্যুৎ নয়!’, প্রাণের ঝুঁকি যেখানে, সেখানে সংযোগে না হাইকোর্টের

By Suman Debnath

September 23, 2026 7:05 PM

‘ভাঙা বাড়িতে বিদ্যুৎ নয়!’, প্রাণের ঝুঁকি যেখানে, সেখানে সংযোগে না হাইকোর্টের

---Advertisement---


বিপজ্জনক, জীর্ণ এবং ধ্বংসের নির্দেশপ্রাপ্ত বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সিইএসসি-কে কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া যায় না। মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন নির্দেশ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত—স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

মানিকতলা মেন রোডের ১২১/৪K নম্বর বাড়িতে একটি ছাপাখানা চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বেসরকারি সংস্থা ও অন্য এক আবেদনকারী। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁরা ওই স্থানের-এর ভাড়াটে এবং বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সিইএসসি-র কাছে আবেদন করেছিলেন।

প্রথমে সিইএসসি-এর তরফে জানানো হয়েছিল, বাড়ির প্রবেশপথ আবর্জনায় আটকে রয়েছে। পরে কলকাতা পুরসভা সেই আবর্জনা সরিয়ে দেওয়ার শংসাপত্র দেয়। আবেদনকারীদের দাবি, সেই তথ্য CESC-কে জানানোর পরেও সংযোগ দেওয়া হয়নি। বরং বাড়ির মালিকপক্ষের আপত্তির কথা জানিয়ে তাঁদের পুলিশি সহায়তা নিতে বলা হয়।

এদিকে, ওই বাড়ি নিয়ে ভাড়াটে ও বাড়ির মালিকদের মধ্যে আইনি লড়াইও চলছিল।

 

মালিকপক্ষের দায়ের করা উচ্ছেদ মামলা ৯ জানুয়ারি ২০২৫-এ খারিজ হয়ে যায়। পরে আবেদনকারীরা দেওয়ানি মামলা দায়ের করে এমন একটি নিষেধাজ্ঞাও পান, যাতে আইন মেনে ছাড়া তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগের প্রশ্নে সামনে আসে আরও গুরুতর বিষয়—বাড়িটিই যে বিপজ্জনক এবং ভেঙে ফেলার নির্দেশপ্রাপ্ত!

CESC আদালতে জানায়, কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই ওই বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। একই বাড়ির আর এক ভাড়াটে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আগে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর রায়ে সমন্বয়কারী বেঞ্চ সেই demolition ও vacation order বহাল রাখে।

 

সেই রায়ে আদালত নথিভুক্ত করেছিল, বাড়ির একটি অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে এবং বাকি কাঠামোটিও যে কোনও সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন বিপজ্জনক বাড়ি শুধুমাত্র ভাড়াটিয়ার অধিকার রক্ষার জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল।

 

এই পরিস্থিতিতেই বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই-এর বেঞ্চে আসে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন।

আবেদনকারীদের পেশ করা কিছু হাতে লেখা নোট নিয়েও আদালত সংশয় প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই নোটগুলি তার আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তবে সেগুলিকে সত্যি ধরে নিলেও, আদালতের মতে ফল বদলাবে না।

 

“গোরি ফ্যাক্টস” বা ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে condemned premises-এ বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া যায় না—মন্তব্য আদালতের।

 

বিদ্যুৎ আইনের ৪৩ নম্বর ধারায় মালিক বা দখলদারের আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিধান থাকলেও, আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে যে আইনের অন্যান্য বিধান এবং মানুষ ও সম্পত্তির নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচ্য।

 

বিচারপতি রাইয়ের পর্যবেক্ষণ, যে বাড়িতে গুরুতর নিরাপত্তা-ঝুঁকি রয়েছে এবং যা ইতিমধ্যেই জীর্ণ অবস্থার কারণে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত, সেখানে CESC-কে বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধ্য করার মতো নির্দেশ দেওয়ার কোনও কারণ নেই।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment