ধর্মতলার ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রতীক উর রহমান। তাঁর মন্তব্যের জবাবে তীব্র সমালোচনা করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
ধর্মতলার (Dharmatala) ছাত্র বিক্ষোভ এবং পুলিশি পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর নেতা প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahman) সামাজিক মাধ্যমে পুলিশি লাঠিচার্জের সমালোচনা করার পর পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আন্দোলন, পুলিশি ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
শুক্রবার দিল্লিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব পড়ে কলকাতাতেও। এসএফআই (SFI)-এর ডাকে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র কলকাতার প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। মিছিল চলাকালীন উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, কিছু দুষ্কৃতী পুলিশের দিকে বোতল ও জুতো ছোড়ে এবং কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্থার শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পদক্ষেপ করে।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রতীক উর রহমান লেখেন, “ধর্মতলায় ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও লাঠিচার্জকে তীব্র ধিক্কার জানাই।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রতীক উর রহমানের বক্তব্যের জবাবে দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, যাঁরা ছাত্র আন্দোলনের পাশে থাকার কথা বলছেন, তাঁরা আন্দোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন না। মন্ত্রীর কথায়, পুলিশ আইন মেনেই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আইন ভাঙার চেষ্টা হলে প্রশাসন ভবিষ্যতেও একইভাবে পদক্ষেপ করবে।
দিলীপ ঘোষ আরও কটাক্ষ করে বলেন, প্রতীক উর রহমান একের পর এক রাজনৈতিক শিবির বদলেছেন এবং এখন ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করছেন। তাঁর মন্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির অবস্থান নয়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, একসময় বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতীক উর রহমান। পরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour)-এ দলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। তবে নির্বাচনের পর থেকে তাঁকে তুলনামূলকভাবে জনসমক্ষে কম দেখা গিয়েছে।
ধর্মতলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এই আবহে প্রতীক উর রহমান ও দিলীপ ঘোষের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং এই ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরবর্তী অবস্থান এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।
Leave a Comment