‘খাম’ নিয়ে খামখেয়ালি? কমিশনের পর এবার হাইকোর্টে নওশাদ

By Suman Debnath

September 21, 2026 6:05 PM

‘খাম’ নিয়ে খামখেয়ালি? কমিশনের পর এবার হাইকোর্টে নওশাদ


প্রতীক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। নন্দীগ্রামে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পর সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীকও ‘খাম’ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

নওশাদের প্রশ্ন, ‘যে দলটি আগে ছিলই না, তারা কীভাবে রাতারাতি ‘রেকগনাইজড পার্টি’ হয়ে গেল?’ প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং তার পিছনের প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

হাইকোর্টে সাংবাদিক সম্মেলনে নওশাদের বক্তব্য, নির্বাচনে যত বেশি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী অংশ নেবেন, গণতন্ত্রের পক্ষে ততই তা ইতিবাচক। তাঁর দাবি, মনোনয়ন দাখিলের পর কোনও প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়া বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ সীমিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে ভালো নয়।

আরও পড়ুন:  অফিসটাইমে পাতালপথে মেট্রো বিভ্রাট, ব্রেক জার্নিতে চরম দুর্ভোগে পড়লেন যাত্রীরা

নওশাদের সাফ বক্তব্য, “এই খেলা উচিত নয়।” তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী লড়াই যত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং ভোটারদের সামনে যত বেশি বিকল্প থাকবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও তত শক্তিশালী হবে। নন্দীগ্রামে ‘খাম’ প্রতীক ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে অবশ্য শুধুমাত্র একটি প্রতীকের প্রশ্ন হিসেবে দেখতে নারাজ আইএসএফ বিধায়ক। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নির্বাচনে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতীক বরাদ্দের নিয়ম এবং বিরোধীদের সমান সুযোগ পাওয়ার বৃহত্তর প্রশ্ন।

এদিন রাজ্যের শাসকদলকেও নিশানা করেন নওশাদ। তাঁর দাবি, শাসকদল ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি আসনে ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে আরও দু’টি আসনের ফল সরকারের অস্তিত্বের উপর কোনও প্রশ্ন তৈরি করার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধীদের লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: দাদার হাতেই খুন হয়েছিলেন বলরাম, বাগুইআটি কাণ্ডে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরও পড়ুন:  বাংলায় কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক যোগ, নিউটাউন থেকে গ্রেপ্তার চাঁই

রাজ্য সরকারের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। বাজেট ঘোষণার পরও বহু কাজ বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রকল্প বা পরিসংখ্যান এদিন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের ‘খাম’ এখন শুধু প্রতীক নয়, ভোটের ময়দানে আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নওশাদের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment