রামায়ণের পাশে দেশ, বামাক্ষ্যাপার পাশে কে?

By Suman Debnath

October 30, 2026 7:25 PM

রামায়ণের পাশে দেশ, বামাক্ষ্যাপার পাশে কে?


রামায়ণকে ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনা। রণবীর কাপুর, যশ ও সাই পল্লবী অভিনীত এই ছবি মুক্তির অপেক্ষায়। হাজার হাজার দর্শকের মতো বাঙালিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রামায়ণের জন্য। কিন্তু একই সঙ্গে বাংলার দর্শকের অপেক্ষা আর একটি ছবিকে ঘিরেও…সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত, সব্যসাচী চৌধুরী অভিনীত ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’।

দুটি ছবির প্রেক্ষাপট এবং ব্যাপ্তি আলাদা। কিন্তু বাঙালির আবেগের জায়গা থেকে দেখলে, সাধক বামাক্ষ্যাপার গুরুত্ব কোনও অংশে কম নয়। তারাপীঠের এই সাধক বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। কালীপুজোর আবহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র। প্রযোজকেরা সেই পরিকল্পনা করেই রিলিজের দিন ঠিক করেছিলেন। তারাপীঠের সাধকের জীবনকাহিনির জন্য শক্তি-সাধনার মরসুমের চেয়ে মানানসই সময় আর হতে পারত না। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, ছবির মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার দর্শকের প্রতীক্ষা আপাতত অনিশ্চিত। যদিও মুক্তির দিন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়। প্রশ্ন উঠছে, একটি সর্বভারতীয় ছবির বিপুল প্রচারের সামনে কি বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক সম্পদকে তুলে ধরার উদ্যোগ কিছুটা পিছিয়ে পড়বে?

আরও পড়ুন:  টলিউডে এবার থেকে ৮ ঘন্টার শিফট

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। রামায়ণকে পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দর্শকের টিকিটের দাম কমিয়ে ছবিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু তা হলে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র ক্ষেত্রেও একই ভাবনা বিবেচিত হবে না কেন? রাম যেমন আমাদের আবেগ, বামাক্ষ্যাপাও তো বাঙালির বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের অংশ। ধর্মীয় আবেগের প্রশ্নে কি আঞ্চলিক পরিচয়ের কোনও গুরুত্ব থাকবে না?

ইতিহাস বলছে, করমুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা কিন্তু পথ দেখিয়েছিল। অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশনের বিজয় বসু পরিচালিত ‘রাজা রামমোহন’ (১৯৬৫) ছিল প্রথম বাংলা ছবি, যেটি করমুক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ বাংলা ছবিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার নজির এ রাজ্যেই রয়েছে। তা হলে আজ সেই ঐতিহ্যকে আরও এক বার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া যাবে না কেন?

শুধু করমুক্তিই নয়, রামায়ণের মতো বড় ছবির জন্য বিপুল সংখ্যক শো বরাদ্দ হলে বাংলা ছবির জায়গা কোথায় থাকবে? রাজ্যের নতুন সরকার কি ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র মতো ছবির জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শো নিশ্চিত করতে পারে না? অন্তত কালীপুজোর মরশুমে বাংলা ছবির দর্শক যাতে নিজেদের পছন্দের ছবি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই ব্যবস্থা কি করা যায় না?

আরও পড়ুন:  প্রাক্তনে মজেছে মন! ১১ বছর পর ফের রাজের প্রযোজনায় মিমি, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?

এখানে কোনও ছবির সঙ্গে অন্য ছবির প্রতিযোগিতার প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা বাংলা ছবির নিজস্ব অস্তিত্ব, ঐতিহ্য এবং দর্শকের অধিকার নিয়ে। রাম যেমন কোটি মানুষের শ্রদ্ধার জায়গা, বাঙালির কাছে বামাক্ষ্যাপাও তেমনই। দুই ছবির মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, সহাবস্থানই কাম্য। তা হলে কালীপুজোর সময় ছবিটি দেখার সুযোগ থেকে কেন বঞ্চিত হবেন বাঙালি দর্শক? রামায়ণ দেখুক বাঙালি, সাধক বামাক্ষ্যাপাও দেখুক। একটির জন্য অন্যটিকে বিসর্জন দিতে হবে কেন? বাংলার মাটির গল্পকে বাংলার সিনেমাহলে যথাযথ জায়গা দেওয়ার দায়িত্ব আসলে কার? প্রশ্ন অনেক, উত্তর অজানা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment