---Advertisement---

‘আমিও দল ছাড়ব’! শর্ত দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট বার্তা কল্যাণের

By Suman Debnath

July 18, 2026 10:20 PM

‘আমিও দল ছাড়ব’! শর্ত দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট বার্তা কল্যাণের

---Advertisement---


একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। বাঁকুড়ায় দলের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, দলত্যাগী নেতাদের যদি আবার তৃণমূলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তিনিও দল ছাড়বেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী বার্তা দিলেন কল্যাণ?

শনিবার বাঁকুড়া তৃণমূল ভবনে আয়োজিত একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ বলেন, “যে যেখানে যেতে চায় যাক। কিন্তু আমি মমতাদিকে স্পষ্ট জানিয়েছি, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন তাঁদের যদি আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমিও দল ছেড়ে চলে যাব।”

তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ

দল ছেড়ে যাওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদেরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর দাবি, ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিলের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেই বিজেপি তৃণমূলের একাংশের সাংসদদের নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

মহুয়া মৈত্রও সরব

একই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও দলত্যাগী সাংসদদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

তাঁর দাবি, যাঁদের সরাসরি বিজেপিতে নেওয়া সম্ভব হয়নি, তাঁদের আপাতত একটি পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আগেও প্রকাশ্যে মতভেদ

উল্লেখ্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

পরে বিষয়টি মিটে যাওয়ার পর তিনি আবারও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেন। একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি, নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতীক ও নাম সংক্রান্ত আইনি লড়াইসহ একাধিক বিষয়ে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।

একুশে জুলাইয়ের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

দলত্যাগীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন। এবার একই ইস্যুতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্পষ্ট অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলত্যাগী নেতাদের প্রসঙ্গে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment