ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে ফের বিলম্ব। প্রয়োজনীয় নথি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আইনজীবীর কাছে পৌঁছয়নি বলে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে জানানো হয়। এরপরই আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে রিপোর্ট তলব করে জানতে চায়, কেন সংশ্লিষ্ট নথি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছল না।
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)এই নির্বাচন মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানিতেই তাঁর পক্ষে আইনজীবী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় কার্যকরীভাবে মামলার শুনানিতে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ধৃত হামিমকে ঘিরে তদন্তে উঠে এল নতুন তথ্য, রেকি করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি
শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের চিরাচরিত অলিখিত নিয়মই যেন নির্বাচনী মামলা পাঁচ বছরেও নিষ্পত্তি হয় না।’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে আদালত কক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানান, আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইভিএম ও সমস্ত নথি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে বিলম্বের কোনও যৌক্তিকতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রেপ্তার টুলুর ম্যানেজার সীতেশের ডায়েরিতে অফিসারদের নাম,উদ্ধার জাল ডিসিআর ছাপার যন্ত্র
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক পক্ষ নিজেদের প্রয়োজনীয় নথির কপি অপর পক্ষকে সরবরাহ করবে এবং হলফনামাসহ আদালতে জমা দেবে। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নির্ধারিত নথি যথাযথভাবে পেয়েছেন কি না। চার সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়। এই বছর দু’বারে ভোট গ্রহণ করা হয়। ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল এই দুই দিন ভোটের জন্য ধার্য করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)ভবানীপুর বিধানসভা থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। মমতার (Mamata Banerjee) বিপরীতে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশিত হয়। শুভেন্দু অধিকারী কাছে পরাজিত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভেন্দু অধিকারী শুধু ভবানীপুর বিধানসভায় নয়, নন্দীগ্রাম থেকেও দাঁড়িয়েছিলেন। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই জায়গাতেই বিপুল ভোটে জয়লাভা করেন তিনি। ভবানীপুর থেকে পরাজিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলায় এদিন চার সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি এবং হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার কথা বলেছে আদালত।
Leave a Comment