একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে সরব হলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দল ছেড়ে যাওয়া নেতারা আর তৃণমূলে ফিরবেন না। তিনি বলেন, যারা এখন দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন, তাঁদের অবস্থান নিয়ে মানুষের সামনে প্রশ্ন উঠবে।
তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের ফলাফলের জন্য দলকে দায়ী করার আগে প্রত্যেকের নিজের ভূমিকারও মূল্যায়ন করা উচিত।
আমতলার কার্যালয় ভাঙা নিয়েও প্রতিক্রিয়া
এদিনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তাঁর দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের ভাঙার অভিযান নিয়ে মুখ খোলেন অভিষেক।
তিনি দাবি করেন, কার্যালয়টি বৈধভাবেই তৈরি হয়েছে এবং জমি সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। তাঁর কথায়, বিষয়টি প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে এবং প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টেও নিয়ে যাওয়া হবে।
অভিষেকের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও প্রশাসনের দাবি, অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা (বিল্ডিং প্ল্যান) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে।
দলের অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনী ফলাফল, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদের জেরেই এই বিরোধ সামনে এসেছে।
অভিষেকের এদিনের মন্তব্যকে সেই সমালোচনারই জবাব বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যও আলোচনায়
শনিবার দলত্যাগী নেতাদের প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, যদি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের ফের দলে নেওয়া হয়, তাহলে তিনিও দল ছাড়ার কথা বিবেচনা করবেন।
এর জেরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা আরও জোরদার হয়েছে।
নজর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে
একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় এবং দলত্যাগী নেতাদের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
Leave a Comment