লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ (Delimitation Bill 2026) পাস করাতে এবার বিশেষ কৌশল নিতে চলেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের দাবি, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তুতি চলছে। এই অধিবেশনেই বহু আলোচিত ডিলিমিটেশন বিলের পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill)-ও পেশ করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
ডিলিমিটেশন বিল সাংবিধানিক সংশোধনের আওতায় পড়ায়, এটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই সংখ্যার সমীকরণ মেলাতে এখন মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী দলগুলির সমর্থন আদায় এবং প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে শাসক শিবির।
সংসদের চলতি অচলাবস্থার মধ্যেই বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-র সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra)-ও। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে বিরোধী শিবিরের মতামত জানতে চেয়েছিল কেন্দ্র। যদিও কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত বিলটিকে সমর্থন করার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।
কংগ্রেসের আপত্তি সত্ত্বেও সংখ্যার অঙ্ক মেলাতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (DMK)-এর অবস্থানের উপর বিশেষ নজর রয়েছে কেন্দ্রের। সরকারি সূত্রের দাবি, ডিএমকে যদি শেষ পর্যন্ত বিলটির বিরোধিতা না করে, তাহলে প্রয়োজনীয় সমর্থনের বড় অংশ নিশ্চিত হতে পারে। তবে তাতেও সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ নাও হতে পারে। সেই কারণেই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের সম্ভাব্য ক্রস ভোটিং বা ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি সংসদে ওঠার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সংখ্যার লড়াই চলবে। কারণ, এই বিলের ভাগ্য নির্ভর করছে প্রতিটি ভোটের উপর।
ডিলিমিটেশন নিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আপত্তি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)-সহ একাধিক রাজ্যের অভিযোগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। তাই ডিএমকের অবস্থানকে এই বিতর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, বিরোধীদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ দূর করতে বিলের খসড়ায় আসন বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো উল্লেখ করা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছে, জনসংখ্যার পার্থক্য সত্ত্বেও সব রাজ্যে নির্দিষ্ট হারে লোকসভা আসন বৃদ্ধির প্রস্তাব লিখিতভাবে রাখা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি খসড়া প্রকাশ করা হয়নি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১৬ আগস্ট থেকে বিশেষ অধিবেশন এবং ওই অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল ও মহিলা সংরক্ষণ বিল আনার বিষয়ে এখনও কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। সরকারি সূত্রে এমন সম্ভাবনার কথা জানা গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সংসদীয় তৎপরতার উপরই নির্ভর করবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলির ভবিষ্যৎ।
Leave a Comment