নকল নথিতে সিম, মুদ্রা ঋণের নামে প্রতারণা! কলকাতায় কল সেন্টারে হানা, গ্রেপ্তার ১০

By Suman Debnath

September 26, 2026 3:25 PM

নকল নথিতে সিম, মুদ্রা ঋণের নামে প্রতারণা! কলকাতায় কল সেন্টারে হানা, গ্রেপ্তার ১০


লোকের চোখে ধুলো দিয়ে নারকেলডাঙা এলাকায় রমরমিয়ে চলছিল জাল নথি তৈরির কারবার। আর জাল নথি তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে সিম কার্ড তুলে সেই সিম ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ।

নারকেলডাঙা থানার মামলার তদন্তে হাটিয়ারা এলাকায় একটি কল সেন্টারে হানা দিয়ে সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন এবং বহু মানুষের তথ্য সম্বলিত খাতা।

পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার সেল, ইএসডি-র একটি তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে নারকেলডাঙা থানায় গত ১২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, তৌসিফ টেলিকমের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন এবং আরও কয়েক জন মিলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে সিম কার্ড সংগ্রহ করছিলেন। জাল নথি তৈরি করে সেগুলিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে সিম ইস্যু করানো হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  এ বার কলকাতাতেও কর্মসূচির পরিকল্পনা ‘ককরোচ’দের! পুলিশের কাছে গেল অনুমতির ইমেল

তদন্তে জানা যায়, ওই সিম কার্ডগুলি পরে সাইবার প্রতারকদের হাতে পৌঁছে যেত। সেই নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা-সহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ চালানো হত বলে পুলিশের অভিযোগ। এর মাধ্যমে প্রতারকরা বেআইনি ভাবে আর্থিক লাভ করত।

তদন্তের সূত্র ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর নারকেলডাঙার ৭সি, ডক্টর এম এন চট্টোপাধ্যায় সরণির বাসিন্দা তৌসিফ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হাটিয়ারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ফ্ল্যাটে চলা কল সেন্টারের হদিশ পান তদন্তকারীরা।

সেখান থেকেই সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বেশ কয়েকটি সাধারণ ও স্মার্ট মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একাধিক খাতা, যাতে বহু মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য লেখা ছিল। পুলিশের দাবি, ওই তথ্যের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বহু বাসিন্দার তথ্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘রাজ্যের সেরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর আস্থা নেই কেন?’— অভিষেককে প্রশ্ন বিচারপতির, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট না এলে সিদ্ধান্ত নয়

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত সাত জনই অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানার বাসিন্দা। সুন্দর ওরফে আলি নামে এক ব্যক্তি তাঁদের কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। এরপর হাটিয়ার ওই ফ্ল্যাট থেকেই প্রতারণার চক্র চালানো হচ্ছিল।

পুলিশের অভিযোগ, নিজেদের একটি মুদ্রা ঋণ প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন অভিযুক্তরা। ফোন করে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়ার টোপ দেওয়া হত। এরপর নানা অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হত।

নারকেলডাঙা থানার এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে। জাল নথি তৈরি করে সিম সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেই সিম ব্যবহার করে ঋণের নামে প্রতারণা—পুরো চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment