আমফান (Amphan) ত্রাণ বণ্টনকে ঘিরে বহু আলোচিত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট শনিবার বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রিপোর্টে যদি দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার সুপারিশ রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আগের সরকার বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও CAG রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেনি এবং তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকার রিপোর্ট প্রকাশের পর তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং রিপোর্টে থাকা সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা অন্য কোনও প্রভাবশালী নেতা— কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রয়োজন হলে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ পাঠানো হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দুই দফায় মোট ৩,৭৫০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ করে। পরে ত্রাণ বণ্টনে অনিয়ম, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করা এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আদালতের নির্দেশে CAG তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সেই তদন্তের রিপোর্ট এতদিন প্রকাশ করা হয়নি এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) এলাকায় আমফান ত্রাণ বণ্টন নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে আসন্ন CAG রিপোর্টে সেই অভিযোগগুলির উল্লেখ রয়েছে কি না, অথবা নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুপারিশ করা হয়েছে কি না, তা এখনও সরকারি ভাবে জানা যায়নি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই (Ranjana Prakash Desai)-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির রিপোর্টও শীঘ্রই সরকারের হাতে পৌঁছতে পারে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর শনিবারের দিকে। কারণ, CAG রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর আমফান ত্রাণ বণ্টন সংক্রান্ত অভিযোগে নতুন কোনও তথ্য বা সুপারিশ সামনে আসে কি না, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ।
Leave a Comment