---Advertisement---

মণিপুরে জঙ্গি হামলায় নিহত চার কুকি, বুলেটে জখম এক শিশুও, অভিযোগের তির নাগা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে

By Suman Debnath

September 14, 2026 11:20 AM

মণিপুরে জঙ্গি হামলায় নিহত চার কুকি, বুলেটে জখম এক শিশুও, অভিযোগের তির নাগা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে

---Advertisement---


মণিপুরে (Manipur) রবিবার পৃথক দু’টি হামলায় কুকি (Kuki) জনজাতির চার জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কুকি (Kuki) সংগঠনগুলির দাবি, ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ তামেনলং জেলার এল টোলেন গ্রামে প্রথম হামলাটি হয়। ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডার্স ফোরামের মুখপাত্র গিনজা ভুয়ালজং জানিয়েছেন, হামলায় এক মহিলা ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর স্বামীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁদের ছ’বছরের ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন: আইরিশ হুইস্কির উপর থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ নোনে জেলার লংপি গ্রামে। সেখানে দু’জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এল টোলেন গ্রাম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ হামলার পিছনে রয়েছে নাগা সংগঠন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড(ইসাক-মুইভা) বা এনএসসিএন(আইএম) এবং সশস্ত্র নাগা সংগঠন জেলিয়াংরং ইউনাইডেট ফ্রন্ট (কামসন)। লংপি গ্রামের কর্তৃপক্ষও হামলার জন্য এনএসসিএন (আইএম)-কে দায়ী করেছে।

এল টোলেন গ্রাম কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ বলে উল্লেখ করেছে। ঘটনার তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কুকি সম্প্রদায়ের দুই বিধায়ক লেটজামাং হাওকিপ এবং কিমনিও হ্যাংশিং। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হ্যাংশিং বলেন, মহিলা, শিশু এবং নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা কাপুরুষোচিত কাজ। সমাজের সর্বস্তর থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: এক ফ্রেমে মোদি-পুতিন-শি, দিল্লিতে ব্রিক্‌সের নতুন শক্তির বার্তা

এ নিয়ে মুখ খুলেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ। বন্দুকবাজদের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা বরদাস্ত করা হবে না।‘

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মণিপুর (Manipur) কুকি (Kuki) ও নাগাদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। উখরুল জেলায় তাংখুল নাগা এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে কথিত সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি অবনতি হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে (Manipur) মেইতেই এবং কুকি (Kuki) -জো-হমার সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। সেই সংঘর্ষের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ৫৯ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কুকি(Kuki) -নাগা সংঘাতে সর্বশেষ এই চার জনের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮।

দেখুন:

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment