কলকাতা: ‘চোর-চোর’ স্লোগানে মুখর তিলোত্তমা। দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar, Delhi) পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আজ কলকাতার রাজপথে নামল এসএফআই (SFI)। পড়ুয়ারা জানালেন, নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ভিডিও বার্তায় তারা সন্তুষ্ট নন, তাদের দাবি শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর ইস্তফা।
বিজেপির যাবতীয় হুশিয়ারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কলকাতায় বিশাল মিছিল নিয়ে নামে এসএফআই। ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও’, ‘আমরা চাই ন্যায়’, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার নিপাত যাক’—স্লোগানে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা না পেয়ে এদিন মধ্য কলকাতার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত মিছিলটি চলে।
দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পড়ুয়ারা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আজ কলকাতায় নামল এসএফআই। আন্দোলনকারীদের দাবি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণায় তাদের মন ভরেনি, তারা চান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই’, ‘রিল নয়, রেজিগনেশন’— প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে SFI-এর বিরাট মিছিল কলকাতায়
দিল্লিতে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২০ লক্ষ পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর জেরে একাধিক পড়ুয়ার আত্মহত্যার খবরও এসেছে। যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত সোমবার যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিলে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi) বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং গ্রেফতার হন।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, সরকার পড়ুয়াদের উদ্বেগ মেটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার প্রথমবার ভিডিও বার্তায় জানান, প্রশ্নফাঁসের দায়ীদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে। কিন্তু তা মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট যথেষ্ট নয়, শিক্ষাব্যবস্থার গোটা কাঠামো বদলাতে হবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতেই হবে।
কলকাতায় এসএফআই-এর এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, গোটা দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ এনেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার (Sumana Sarkar) বলেছেন, পড়ুয়াদের এই আন্দোলন জায়েজ, কিন্তু কেউ যেন আইন হাতে না নেয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তাদের আর কিছু চাই না। তারা চান শুধু ইস্তফা। আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন আন্দোলনকারীরা। কলকাতাতেও বাড়তে পারে আন্দোলনের তাপমাত্রা।
Leave a Comment